বিজ্ঞাপন
দেশের প্রায় ৮০ লাখ নির্মাণশ্রমিকের কর্মক্ষেত্রে জীবনের নিরাপত্তা, নিয়োগপত্র ও জীবনযাপন উপযোগী মজুরিসহ ১২ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন ওয়ার্কার্স ফেডারেশন।
রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি আমিরুল হক আমিন শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন সভাপতি মো. আব্দুল মতিন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শেখ আনোয়ার হোসাইন।
এসময় ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতা ইসমাইল হোসেন রনি, আ. স. ম জাকারিয়া, ইসরাফিল হোসেন, মো. রফিকুল ইসলাম, শুকুর আলী, হাজী হাফিজুর রহমান, দীপক চৌধুরী, আব্দুর রহিম, মনিরা মুন্নি, সুরাইয়া জেসমিন রুমা, হুমায়ুন কবিরসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফেডারেশনের সভাপতি মো. আব্দুল মতিন বলেন, দেশের উন্নয়ন ও আধুনিক সভ্যতা নির্মাণ শ্রমিকদের ঘাম, শ্রম ও ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। অথচ দেশের নির্মাণ শ্রমিকদের সার্বিক অবস্থা অত্যন্ত করুণ ও অবহেলিত।
তিনি বলেন, সারাদেশে প্রায় ৮০ লাখ নির্মাণশ্রমিক কাজ করেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা বহুতল ভবন, রাস্তাঘাট, কালভার্ট, ব্রিজ, সেতু ও আধুনিক মার্কেট নির্মাণ করছেন। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শ্রমিকদের ন্যূনতম নিরাপত্তা সরঞ্জাম সেফটি হেলমেট, বেল্ট, বুট ও গ্লাভস ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ উচ্চতায় কাজ করতে বাধ্য করা হয়।
আরও পড়ুন
দেশ ছাড়ছেন গার্মেন্টস শ্রমিকরা, ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরি দাবি
ফেডারেশনের নেতারা বলেন, জাতীয় শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের নিয়োগপত্র দেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও বাস্তবে নির্মাণ শ্রমিকদের প্রায় সবাই এ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। ফলে তারা নিয়মিত মজুরি বঞ্চনা ও মালিকপক্ষের হয়রানির শিকার হন।
তারা আরও বলেন, কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় আহত বা নিহত হলে নির্মাণ শ্রমিকদের সুচিকিৎসা ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণেরও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জীবনযাপন উপযোগী মজুরি থেকেও তারা বঞ্চিত।
১২ দফা দাবি
সংবাদ সম্মেলনে নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য ১২ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো-
শ্রম আইন অনুযায়ী নির্মাণ শ্রমিকদের নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র দিতে হবে।
নির্মাণ শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
জীবনযাপন উপযোগী মজুরি নির্ধারণ করতে হবে।
সামাজিক নিরাপত্তা ও অবসরকালীন সময়ের জন্য সরকারি উদ্যোগে আলাদা ‘অবসর কল্যাণ’ ফান্ড গঠন করতে হবে।
সরকারি উদ্যোগে জেলা ভিত্তিক নির্মাণ শ্রমিকদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।
সারাদেশে কর্মরত নির্মাণ শ্রমিকদের ডাটাবেজের আওতায় আনতে হবে।
কর্মক্ষেত্রে নিহত ও আহত শ্রমিকদের আজীবন আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ, সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
নির্মাণ শ্রমিকদের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা, ঝুঁকিপূর্ণ কর্মস্থল এবং শ্রম আইন বাস্তবায়নে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য জেলা ভিত্তিক সরকারি হাসপাতাল নির্মাণ করতে হবে।
যে কোনো নির্মাণকাজের জন্য সরকারি অনুমোদন বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং নির্মাণ ব্যয়ের ১ শতাংশ শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডে জমা দিতে হবে।
নির্মাণ শ্রমিক সংশ্লিষ্ট শ্রম আইনের ধারাগুলো সংশোধন করে শ্রমিকবান্ধব আইন প্রণয়ন করতে হবে।
প্রত্যেক নির্মাণ শ্রমিককে গ্রুপ বিমার আওতায় আনতে হবে এবং সব ধরনের সরকারি ছুটি কার্যকর করতে হবে।
১৩ সেপ্টেম্বর মানববন্ধন
১২ দফা দাবি বাস্তবায়নে পরবর্তী কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে ফেডারেশন। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর রোববার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নির্মাণশ্রমিকদের মানববন্ধন হবে।
মানববন্ধনের পর পর্যায়ক্রমে সারাদেশে স্মারকলিপি দেওয়া ও বিক্ষোভ সমাবেশসহ ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করা হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
বক্তারা দেশের ৮০ লাখ নির্মাণ শ্রমিকের অমানবিক জীবনযাপনের অবসান এবং দ্রুত ১২ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
ইএআর/এমআইএইচএস
বিজ্ঞাপন