তীব্র প্রখর রোদের সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিত লোডশেডিংয়ে স্থবির হয়ে পড়েছে ফেনীর স্বাভাবিক জনজীবন। জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় শহর থেকে গ্রাম-সর্বত্রই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। এতে বাসাবাড়ির দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও চলমান বিভিন্ন স্তরের পাবলিক পরীক্ষা ব্যাহত হচ্ছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, ফেনী জেলায় বর্তমানে বিদ্যুতের মোট চাহিদা প্রায় ১৭৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে গ্রামীণ এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। একই অবস্থা শহরেরও। বিপিডিবির আওতাধীন এলাকায় গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের চাহিদা গড়ে প্রায় ৪৫ মেগাওয়াট হলেও সেখানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২৫ মেগাওয়াট, যা মোট চাহিদার অর্ধেকের কাছাকাছি।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্তারা বলছেন, চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যকার এই বড় ব্যবধানের কারণেই কোনো নির্দিষ্ট সূচি বা শিডিউল মেনে লোডশেডিং দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সোনাগাজী জোনাল অফিসের ডিজিএম মোস্তফা কামাল বলেন, আমাদের দায়িত্ব বিদ্যুৎ বিতরণ করা। কিন্তু জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পেলে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়া সম্ভব নয়। সোনাগাজী উপজেলায় পিক আওয়ারে ১৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মেলে মাত্র ৮ থেকে ১০ মেগাওয়াট।
অন্যদিকে বিপিডিবি ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ কান্তি মজুমদার জানান, জাতীয় গ্রিডে সমস্যা এবং দিনে-রাতে সমানভাবে ঘাটতি বিদ্যমান থাকায় নির্ধারিত সময়সূচি বজায় রাখা যাচ্ছে না।
বিদ্যুতের এই অনিয়মিত চলাচলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা চলমান থাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে পড়াশোনা ও কেন্দ্রগুলোতে পরীক্ষা গ্রহণ কঠিন হয়ে পড়েছে।
ফেনী সরকারি জিয়া মহিলা কলেজের অনার্স ১ম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক মো. ইমাম উদ্দিন জানান, পরীক্ষা চলাকালীন বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে লিখিতভাবে অনুরোধ জানানো হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। প্রচণ্ড গরমে আলো ও বাতাসের অভাবে পরীক্ষা কেন্দ্রে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পরীক্ষার্থীদের।
গ্রাহকদের ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে। বাসাবাড়িতে ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হওয়া ছাড়াও অনেক এলাকায় সময়মতো পানি তোলা সম্ভব হচ্ছে না। বিপিডিবির আওতাধীন গ্রাহকদের প্রায় ৮৫ শতাংশই প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করেন। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত বিল পরিশোধের পরও সেবা না পাওয়া হতাশাজনক। গ্রাহকেরা অবিলম্বে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ বাড়িয়ে এই অনিয়ন্ত্রিত লোডশেডিং বন্ধের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
আবদুল্লাহ আল-মামুন/এফএ/এএসএম