হঠাৎ করেই উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টির প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে সকাল ৬টা ও ১০টার রেকর্ড থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়।
এতে বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল থেকে লালমনিরহাটের তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বন্যার পানিতে প্লাবিত হতে শুরু করেছে হাতীবান্ধা উপজেলার বিভিন্ন চর ও নিম্নাঞ্চল। আগামী পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে এই ঢলের পানি কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার নিম্নাঞ্চলেও পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হু হু করে বন্যার পানিতে বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। দেখা দিয়েছে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্যানিটেশন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফলে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা।
এদিকে বন্যার কারণে গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। অনেক এলাকায় মাছের ঘের তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন মৎস্যচাষিরাও।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে তিস্তা তীরবর্তী এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। পানি নেমে যাওয়ার পর কোথাও নদীভাঙন দেখা দিলে দ্রুত জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে জেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মহসীন ইসলাম শাওন/এফএ/এএসএম