হামে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। এখন পর্যন্ত এই হাম ও হাম উপসর্গে প্রাণ গেছে ৮৭৩ জনের। এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটছেন স্বজনেরা। কোথাও বিশেষ ওয়ার্ডে জায়গা মিলছে না, কোথাও সংকট আইসিইউ ও এনআইসিইউর। জটিল রোগীদের নিয়ে শুরু হচ্ছে হাসপাতাল বদলের দৌড়। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে ঋণ ও সঞ্চয় ভাঙার তথ্যও উঠে এসেছে জরিপে।
কিন্তু হাসপাতাল ব্যবস্থাপনাসহ নানা আয়োজনে ব্যর্থতার খবর উঠে আসছে। টিকা নেওয়া শিশু, না নেওয়া শিশু; সবাই আক্রান্ত হচ্ছে এই ভাইরাসে। আক্রান্ত হয়েছে টিকা পাওয়ার উপযোগী বয়স হওয়ার আগেই। বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত সব ব্যারিকেড ভেঙে এ যেন অপ্রতিরোধ্য রাক্ষস!
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, এখনো বেড়েই চলছে হামের সংক্রমণ। রয়েছে মৃত্যুর মিছিলও। ৮ আগস্ট সকাল ৮টা থেকে ৯ আগস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত এক হাজার ৬৩ জন হাম ও সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে এসেছে। মারা গেছে ৬ জন।
সরকার বলছে, হাম রুবেলার টিকায় তাদের সাফল্য টার্গেটের চেয়েও বেশি। এতদিন টিকা না দেওয়ার জন্য বিগত সরকারকে দায় দিলেও এখন কাকে দায় দেওয়া হবে? টিকা দেওয়ার পরও কেন আক্রান্ত হচ্ছে? কেন মরছে মানুষ? এমন প্রশ্ন সর্বত্র।
হামের প্রাদুর্ভাবের শুরুতেই গবেষণায় দাবি উঠলেও কর্নপাত করেনি সরকার। এত প্রাণহানির পর গবেষণায় নেমেছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। এরই মধ্যে আইসিডিডিআর’বি এবং বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট গবেষণা করে এই হাম দেশীয়, কোনো নতুন বা বিদেশি ধরন আসেনি বলে নিশ্চিত হয়েছে।
তবে এক ডোজ টিকা পাওয়া ৪৮ শিশুর মধ্যে ৪৪ জন বা ৯২ শতাংশ এবং সুপারিশ করা দুই ডোজ টিকা পাওয়া ২১ শিশুর মধ্যে ১৬ জনের বা ৭৬ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়। এজন্য এবার আইইডিসিআর খুঁজছে টিকা পাওয়ার পরও কেন আক্রান্ত হচ্ছে শিশু? শিগগির ফল মিলবে।
আরও পড়ুন
হামের উপসর্গে ৬ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১০৬৩
সরকার বলছে, তাদের টিকাদানে আছে সাফল্য। এরই মধ্যে দুই কোটি ১২ লাখ তিন হাজার ৩৯৮ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এটি তাদের টাগের্টের চেয়ে অনেক বেশি। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায়ও পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে। শিশু হাসপাতালে হামের বিশেষ ওয়ার্ড করা হয়েছে।
রাজধানীর মহাখালীর ডিএনসিসি কোভিড১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালকে এখন হামের জন্য ডেডিকেটেড করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে নেই এনআইসিইউ বা অন্য জটিলতার সমাধানের সুযোগ। কম বয়সীদের সেখানে নেওয়া হয় না। সরকারের ঢাকঢোলের বাস্তব চিত্র ভুক্তভোগীদের জানা।
তারা বলছেন, এমন বিপদে সরকার অন্যের ঘাড়ে দায় চেপে নিজেকে মুক্ত করে বসে আছে। এত মৃত্যুর জন্য তাদের নেই কোনো বিকার।
চাঁদপুরের ওসমান, বয়স ৯ মাস। ৬ মাস বয়সে সরকারের হাম-রুবেলা টিকা ক্যাম্পেইন থেকে টিকা পেয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি সেও আক্রান্ত হয়েছে হামে। যদিও হাসপাতাল ঘুরে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
আরও পড়ুন
লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৪ শতাংশ বেশি হামের টিকা কভারেজ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ওসমানের মা সানজিদা আক্তার জাগো নিউজকে বলেন, ‘সরকারের কথা অনুযায়ী টিকা দিলাম, কিন্তু তারপরও বাচ্চা হামে আক্রান্ত হয়েছে। হাসপাতালে হাসপাতালে দৌড়ে বুকের ধন নিয়ে বাড়ি আসছি। কিন্তু সরকার তো আমাদের স্বস্তি-সুরক্ষা দিতে পারেনি। পদে পদে ভোগান্তি ছিল অবর্ণনীয়। কেউ সহযোগিতা করে না। কেউ আশ্বাস দেয় না। কী দুর্বিষহ জার্নি গেলো ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না!’
তবে চাঁদপুরের ওসমানের মতো বেঁচে বাসায় ফেরেনি এশা। মায়ের কোল খালি করে অদৃশ্যে পাড়ি জমিয়েছে সে। তার বাবা বলেন, ‘হাসপাতাল থেকে হাসপাতাল ঘুরেও সন্তান বাঁচাতে পারিনি। বুঝে উঠার আগেই পরিস্থিতি খারাপ হয়ে গেছে। এক হাসপাতালে গেলে আরেক হাসপাতালে পাঠায়, এভাবে করে আমরাও শেষ, সন্তানও শেষ। কার দোষ দেব? কাকে বলবো? কেউ আমাদের নিয়ে ভাবে? কারো কোনো বিকার আছে এ নিয়ে? শত শত বুক খালি হচ্ছে, কোনো চিন্তা নেই কারো। যার যায় সে বুঝে!’
শুধু ওসমান বা এশা নয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ৯ আগস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত হাম ও সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ ৫৩ হাজার ৪৩৫ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম হয়েছে ১৭ হাজার ১১৫ জনের। সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা এক লাখ ৩৬ হাজার ৩২০ জন। মৃত্যু হয়েছে ৮৭৩ শিশুর। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম ছিল ৯৮ জনের, সন্দেহজনক হাম রোগী ছিল ৭৭৫ জন। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল এক লাখ ১৮ হাজার ৩৮২ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী, এরই মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এক লাখ ১৪ হাজার ১৪২ জন।
আরও পড়ুন
আইসিডিডিআর’বির অনুসন্ধান / হামের জিনগত পরিবর্তন হয়নি, আক্রান্ত বেশি ৯ মাসের নিচে
হামের এই তথ্য শুধু চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ৯ আগস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়া তথ্য। এর বাইরে আরও আক্রান্ত আছে, যারা অনেকে হাসপাতালে আসেনি।
টিকা দেওয়ার সাফল্য উল্লেখ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গত এপ্রিলে শুরু হওয়া ক্যাম্পেইনে ৯ আগস্ট পর্যন্ত টার্গেটের বেশি টিকা দেওয়া হয়েছে। সরকারের টার্গেট ছিল সিটি করপোরেশন পর্যায়ে ১৯ লাখ ৫ হাজার ৯৫০ শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা দেবে। এরই মধ্যে তারা ২০ লাখ ৪৭ হাজার ১২৯ শিশুকে টিকা দিতে সক্ষম হয়েছে। সে হিসেবে তাদের সাফল্য ১০৭ শতাংশ।
আরও পড়ুন
হাম সংক্রমণ কমলেও টিকাদান বন্ধ হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সিটি করপোরেশনের বাইরে বিভাগগুলোতে সরকারের টার্গেট ছিল এক কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ শিশুকে টিকা দেওয়া। তারা এরই মধ্যে টিকা দিয়েছে এক কোটি ৯১ লাখ ৫৬ হাজার ২৬৯ শিশুকে। এখানেও সরকারের অর্জন বেশি।
টিকা পাওয়া ৭৬ শতাংশেরও হাম শনাক্ত হয়: গবেষণা
আইসিডিডিআর’বি এবং বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের গবেষকরা ২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল থেকে ২১ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে সন্দেহভাজন হাম নিয়ে ভর্তি হওয়া ১৪ বছরের কম বয়সী ৩৪১ শিশুকে নিয়ে অনুসন্ধান চালায়। পরীক্ষাগারে ৩২৪ শিশুর হাম নিশ্চিত হয়। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ছিল তিন থেকে আট মাস বয়সী শিশুরা। এই বয়সী ১৪১ শিশুর মধ্যে ১৩৭ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে।
গবেষকরা বয়স ও টিকা নেওয়ার ভিত্তিতে ৩৪১ শিশুকে চারটি দলে ভাগ করেন। নিয়মিত টিকা পাওয়ার বয়স হয়নি এমন ৯ মাসের কম বয়সী ১৪৬ শিশুর মধ্যে ১৪২ জনের, অর্থাৎ ৯৭ দশমিক ৩ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়। টিকা নেওয়ার বয়স হলেও কোনো ডোজ না পাওয়া এমন ১২৬ শিশুর মধ্যে ১২২ জনের, অর্থাৎ ৯৭ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়। এক ডোজ টিকা পাওয়া ৪৮ শিশুর মধ্যে ৪৪ জন বা ৯২ শতাংশ এবং সুপারিশকৃত দুই ডোজ টিকা পাওয়া ২১ শিশুর মধ্যে ১৬ জন বা ৭৬ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়।
আরও পড়ুন
স্বাস্থ্যমন্ত্রী / হাম রোধে সাড়ে ৫ বছর ক্যাম্পেইন চলেনি, মজুত করা হয়নি টিকা
আইসিডিডিআর’বির সংক্রামক রোগ বিভাগের ভাইরোলজি ল্যাবরেটরির সহযোগী বিজ্ঞানী নূরজাহান মালিহা বলেন, এই প্রাদুর্ভাবের ব্যাপকতা দেখে টিকা এখনো কার্যকর কি না, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। আমাদের অনুসন্ধানে ভাইরাসটি টিকার সুরক্ষা এড়িয়ে যাচ্ছে, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দুই ডোজ টিকা পাওয়া শিশুদের মধ্যে পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়ার হার কম ছিল। তবে হাসপাতালভিত্তিক এই অনুসন্ধান দিয়ে জনসংখ্যা পর্যায়ে টিকার কার্যকারিতার হার নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। অধিকতর গবেষণা প্রয়োজন।
জরুরি ভিত্তিতে গবেষণা প্রয়োজন: অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ
হামের সংক্রমণ বা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না; টিকা নেওয়ার পরও মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, আবার টিকা না নিয়েও আক্রান্ত হচ্ছে—এমন পরিস্থিতিতে প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ প্রফেসর এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, টিকা তো আগে দেওয়া হয়নি, এখন দেওয়া হচ্ছে। সাধারণত টিকার অ্যাকশন হতে এক থেকে দেড় মাস, এমনকি দুই মাস সময় লাগে। তারপরও কেন কাজ হচ্ছে না, তার কারণ বুঝতে জরুরি ভিত্তিতে গবেষণা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ভাইরাসটি তার আচরণ পরিবর্তন (মিউটেশন) করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। কারণ এটি সাধারণ মিজলস ভাইরাসের মতো হওয়ার কথা নয়, কিন্তু তবুও হচ্ছে। এছাড়া টিকাদান কার্যক্রম সুন্দরভাবে হচ্ছে কি না, তা পর্যালোচনার সময় এসেছে।
আরও পড়ুন
হামের প্রাদুর্ভাব রোধে ঘরে ঘরে গিয়ে টিকার তথ্য দেওয়ার আহ্বান
সবশেষে তিনি উল্লেখ করেন, আক্রান্ত ও মৃত্যুর পেছনে অপুষ্টি একটি অন্যতম বড় কারণ। সবারই কিছু না কিছু অপুষ্টিজনিত সমস্যা রয়েছে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম কি না- বিষয়গুলোসহ ভাইরাসের আচরণ এবং টিকাদান প্রক্রিয়া—সবকিছু মিলিয়ে যারাই আক্রান্ত বা মারা যাচ্ছেন, তাদের নিয়ে একটি জরুরি গবেষণা করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
গবেষণার কাজ চলছে, শিগগির ফল: পরিচালক আইডিসিআর
এ নিয়ে সরকারের উদ্যোগ জানতে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকির সঙ্গে কথা বলে জাগো নিউজ। তিনি বলেন, এখানে দুটো বিষয় গবেষণা করার মতো। প্রথমত, হামের এই ভাইরাসটা ধরন পরিবর্তন করেছে কি না বা বৈদেশিক কোনো ভাইরাসের রূপ ধারণ করেছে কি না? আমরা গবেষণা করে পেয়েছি, এটি আমাদের দেশীয় ধরনেরই ভাইরাস। অন্য কোনো ধরনে রূপ নেয়নি।
আরও পড়ুন
বাংলাদেশে হামের মহামারি এবং একটি জনস্বাস্থ্য চুক্তির অপমৃত্যু
আরেকটা কাজ হলো টিকা কাজ করছে কি না? গবেষণাটা আমাদের বাকি। এরই মধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। আগামী দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে করে ফেলবো। আমরা পরিকল্পনা করেছি, হামে উচ্চ আক্রান্ত ৩০ উপজেলার ৫০০ থেকে ৮০০ টিকাপ্রাপ্ত শিশুর স্যাম্পল সংগ্রহ করবো। যদিও কাজটি কঠিন, আমরা করবো। তাদের দেহে কতটা কাজ করছে টিকা, এটা আমরা দেখবো। তাহলে ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হবে।
হামের চিকিৎসা করতে গিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে পরিবার
এদিকে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের (আইএফআরসি) যৌথ জরিপে দেখা গেছে, হামে আক্রান্ত প্রতি ১০টি পরিবারের প্রায় ৯টি (প্রায় ৮৯ শতাংশ) চিকিৎসার খরচ মেটাতে ঋণ নিয়েছে। এছাড়া প্রতি ১০টি পরিবারের ৬টি (প্রায় ৬১ শতাংশ) নিজেদের সঞ্চয় ফুরিয়েছেন।
জরিপে অংশ নেওয়া সবগুলো পরিবারই জানিয়েছে যে, তাদের আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। এর মধ্যে ৩৫ শতাংশ পরিবার ওষুধকে সবচেয়ে জরুরি সহায়তা হিসেবে উল্লেখ করেছে। এরপর রয়েছে পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) সহায়তা (৩৩ শতাংশ) এবং খাদ্য সহায়তা (২২ শতাংশ)।
জরিপ থেকে উঠে আসা তথ্য জানাচ্ছে, ৪ শতাংশ পরিবার নিজেদের সম্পদ বিক্রি করেছেন এবং প্রায় ৩ শতাংশ অনুদান থেকে ব্যয় মেটানোর চেষ্টা করেছেন।
আরও পড়ুন
জরিপ / হামে আক্রান্ত ১০টি পরিবারের ৯টিই চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে ঋণ নিয়েছেন
দেশের ১২টি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া হামে আক্রান্ত দুই হাজার ৭৪৬টি পরিবারের ওপর এই মূল্যায়ন পরিচালনা করা হয়। এতে দেখা গেছে, এই প্রাদুর্ভাবের আর্থিক প্রভাব শুধু চিকিৎসা ব্যয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিচ্ছেন, এমন সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দুই হাজার ৪০০টি পরিবারকে জরুরি নগদ সহায়তা (প্রতি পরিবার ১০ হাজার টাকা) দেওয়ার জন্য নির্বাচন এবং হামের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়নের উদ্দেশ্যে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়।
নির্ধারিত ঝুঁকির মানদণ্ড অনুযায়ী দুই হাজার ৭৪৬টি পরিবারের মূল্যায়ন করা হয়, যার মধ্যে থেকে দুই হাজার ৪০০টি পরিবারকে সহায়তার জন্য নির্বাচন করা হয়। জরিপে অংশগ্রহণকারী পরিবারগুলোর মধ্যে ৭৫ শতাংশ রোগীর বয়স ছিল ৪ বছরের মধ্যে, ৬-১৭ বছর বয়সী রোগীর বয়স ১৯ শতাংশ এবং ১৮ বছরের উপরে ৬ শতাংশ ছিল।
জরিপে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, চিকিৎসা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতে প্রতিটি পরিবার গড়ে ১৬,০০০ টাকা ব্যয় করেছে। অনেক অভিভাবক জানিয়েছেন, অসুস্থ শিশু বা পরিবারের সদস্যের পাশে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকার কারণে তারা আয়ের পথ হারিয়েছেন, এমনকি কেউ কেউ চাকরিও হারিয়েছেন।
এসইউজে/এমআইএইচএস/এমএমএআর