রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে প্রশাসন আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনীতে একটি চিত্রকর্ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
শিল্পকর্মটিতে একটি হাতের মুষ্টিতে দাঁড়িপাল্লা দেখা যায়। পাল্লার এক পাশে লাল রঙে ‘৭১’, অপর পাশে কালচে রঙে ‘২৪’ লেখা। ‘২৪’ লেখা পাল্লাটি নিচের দিকে কিছুটা ঝুঁকে থাকায় যেন দেখানো হচ্ছে, একাত্তরের তুলনায় চব্বিশের ওজন বেশি।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: রং তুলিতে মুক্ত স্বদেশ’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী চিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়। প্রদর্শনীতে থাকা ওই শিল্পকর্মটি প্রকাশের পর থেকেই এ নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
আরও পড়ুন
উত্তেজনা থাকলেও রাবিতে সংঘাত এড়াচ্ছে ছাত্রদল-শিবির
এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বরাবর লিখিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন শিল্পকর্মটির শিল্পী ও গ্রাফিকস ডিজাইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী দীপ্ত দিপন দেবনাথ।
লিখিত ব্যাখ্যায় শিল্পী বলেন, “এই চিত্রকর্মে দেখা যাচ্ছে, একটি হাত দাঁড়িপাল্লা ধরে আছে। দাঁড়িপাল্লার এক পাশে ‘৭১’, অন্য পাশে ‘২৪’ লেখা। ‘২৪ লেখা’ দিকটি নিচের দিকে নেমে আছে। এখানে অনেকে মনে করছেন, আমি ৭১-এর গুরুত্ব কম মনে করে ২৪-কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। এখানেই মূল সমস্যা। আমি যে মোটিফ নিয়ে কাজটি করেছি, মানুষ সেটা না বুঝে ভুল একটি ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছে।”
দাঁড়িপাল্লার প্রতীকী অর্থ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘আমি এখানে দাঁড়িপাল্লা বলতে ওজন মাপার যন্ত্র বোঝাতে চাইনি। দাঁড়িপাল্লা বলতে এমন একটি গোষ্ঠী বা দলকে বুঝিয়েছি, যারা মুক্তিযুদ্ধকে কখনো সমর্থন করেনি। তারা নিজেদের স্বার্থলাভের জন্য ২৪-কে ৭১-এর চেয়ে বড় করে দেখাতে চায়—সেটিই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।’
শিল্পী আরও বলেন, ‘ছবিটি ভালোভাবে দেখলে বোঝা যায়, ৭১ লেখা দিকে শুধুই ৭১ লেখা। কারণ ৭১-এর গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে আর কোনো কিছুর প্রয়োজন নেই। তবে ২৪-এর লেখার সঙ্গে কিছু ইট-পাথরের টুকরা রয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, ২৪-এর দিকে অতিরিক্ত ওজন দেওয়া হচ্ছে এবং তা নিজ স্বার্থলাভের উদ্দেশ্যে।’
আরও পড়ুন
শুধু রাবিতেই মেলে দেখা বিরল প্রজাতির বামুনশালিক
নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে দীপ্ত দিপন দেবনাথ বলেন, ‘আমি ২৪-এর বিরুদ্ধে নই। কিন্তু যারা ২৪-কে ৭১-এর চেয়ে বড় করে দেখতে চায়, ২৪-কে ৭১-এর চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করে, তাদের বিরুদ্ধেই আমার এই চিত্রকর্মটি আঁকা।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘চিত্রকর্মটি নিয়ে একটি লিখিত ব্যাখ্যা পেয়েছি। শিল্পী তার শিল্পকর্মের ব্যাখ্যা দিয়েছেন।’
এসআর/এএসএম