অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজটা কেমন হতে যাচ্ছে, এ নিয়ে জল্পনা ও কল্পনার অন্ত নেই। যা হতে যাচ্ছে তার সম্ভাব্য এক ঝলক বোধহয় দেখেই গেছে প্রস্তুতি ম্যাচে। ইনিংসে ও ৩৮ রানে হার। তারচেয়ে বড় বিষয় ৫৪ রানে অলআউট ও অখ্যাত ক্যাম্পবেল টম্পসন ২৫ রানে বাংলাদেশের ৮ ব্যাটারকে ফিরিয়েছেন সাজঘরে।
২৩ বছর আগে টেস্ট সিরিজের আগে তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নেমে সবগুলো ম্যাচই অবশ্য জিতেছিল বাংলাদেশ দল। তবে তা মোটেও কাজে দেয়নি মূল সিরিজে। জয়ে সফর শুরু করার পর যে আত্মবিশ্বাস লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা পেয়েছিল, সেটি আর টেকেনি টেস্ট ও ওয়ানডে দুই সিরিজেই। লাল বলের দুই ম্যাচেই হারতে হয়েছিল ইনিংস ব্যবধানে।
আরও পড়ুন
স্টিভ ওয়াহর গ্লাভসের স্বপ্নে দুই ইনিংসেই শূন্য: আশরাফুলের অজানা গল্প
প্রথম টেস্টে ডারউইনে ইনিংস ও ১৩২ রানে পরাজিত হওয়ার পর দ্বিতীয় টেস্টে কেয়ার্নসে হার ইনিংস ও ৯৮ রানে। একেবারে গো-হারা যাকে বলে আরকি। দীর্ঘদিন পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আবারও টেস্ট সফর। সেই সফরের স্কোয়াডের কেউই নেই এবারের স্কোয়াডে। এরপরও মাঠের বাইরে দলের সঙ্গে আছেন দুজন। মোহাম্মদ আশরাফুল ও হাবিবুল বাশার সুমন।
২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে নিয়োগ পান সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল। আর দীর্ঘদিন ধরেই বোর্ডের চাকরি করা হাবিবুল বাশার সুমন আছেন প্রধান নির্বাচকের পদে। দুজনই দলের সঙ্গে আছেন অস্ট্রেলিয়ায়। অতীত ইতিহাস ঘেঁটে দুজনের আড্ডা ছাড়াও দলকে ভালো ফল এনে দেওয়ার দায়িত্বও আছে দুজনের কাঁধে।
সেই সফরে খালেদ মাহুমুদ সুজনের নেতৃত্বে খেলেছিল বাংলাদেশ দল। অজিদের মাটিতে খেলতে যাওয়াই তখন ছিল বিরাট ব্যাপার দলটার জন্য। পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়ার বড় ও নামি তারকাদের বিপক্ষে তাদেরই মাঠে খেলতে পারাটাই বড় ব্যাপার ছিল ডেভ হোয়াটমোরের শিষ্যদের।
আশরাফুল ও হাবিবুল বাশার সেই সফরেও দলের সঙ্গেও থাকার কথা শুনে নিশ্চিতভাবেই আগ্রহ জন্মেছে পাঠকদের। বিশেষ করে সেই সফরে তাদের পারফরম্যান্সটা জানার। যদিও সেটি নিয়ে আলাপ করতে গেলে হতাশই হবেন আজকের দিনের পাঠকরা। বিশেষ করে ব্যাটিং কোচ আশরাফুলের পারফরম্যান্সে। যেখানে দল হেরেছিল দুই টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে। সেখানে এই দুইয়ের পারফরম্যান্স সেভাবে সন্তোষজনক না হওয়াই তো অনুমেয়।
এরপরও ভালো খেলার জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে স্টিভ ওয়াহ আশরাফুলকে দিয়েছিলেন এক লোভনীয় অফার। অর্ধশতকের দেখা পেলে তার গ্লাভসে বাংলাদেশের তরুণ তারকাকে উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি করেছিলেন তিনি দ্বিতীয় টেস্টে। কিন্তু দুই ইনিংসেই রানের খাতা খুলতে ব্যর্থ হন তিনি। লোভনীয় প্রস্তাবটি তিনি পেয়েছিলেন প্রথম টেস্টে হারার পর।
অজি অধিনায়ক বাংলাদশ দলের ড্রেসিংরুমে এসে সবাইকে আমন্ত্রণ জানান তাদের সাজঘরে। সেখানে গিয়ে দশ মিনিট আড্ডা দিয়ে চলে আসে বাংলাদেশ দলের সদস্যরা। তখন সংবাদ সম্মেলনে ব্যস্ত ছিলেন ওয়াহ। পরে তিনি তার দলকে নিয়ে যান সফরকারীদের ড্রেসিংরুমে। সেখানেই আশরাফুল প্রশংসা করেন স্টিভ ওয়াহর ব্যাটিং গ্লাভসের। তখনই অজি তারকা তাকে সেই অফার দেন।
দ্বিতীয় টেস্টের আগে প্রথম টেস্টে রানের খাতা খুললেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ২৩ ও ৭ রান করে আউট হয়েছিলেন তিনি। তবে প্রথম টেস্টে হাবিবুল বাশার সুমন ছিলেন দারুণ। মিস্টার ফিফটিখ্যাত সুমন প্রথম ইনিংসে ১৬ রান করে ফিরলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ৯১ বলে ৪টি চারে খেলেন ৫৪ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে অর্ধশতকের কাছাকাছি গিয়েও হাতছাড়া হয়। আউট হন ৪৬ রানে। আর দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ২৫ রান।
সিরিজ শুরুর আগে হওয়া তিন প্রস্তুতি ম্যাচের সবকটিতেই জয়ের দেখা পায় বাংলাদেশ। ব্রিসবেনে প্রথমটি কুইন্সল্যান্ড একাডমি অব স্পোর্টস ইনোভেশনের বিপক্ষে খেলে জয় পায় ২৯ রানে। প্রথম ইনিংসে হাবিবুল বাশার ২০ ও আশরাফুল করেন ৩৯ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে দুজনের ব্যাটে আসে ৩৩ ও ১ রান।
এরপর ব্রিসবেনেই ছিল দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচ। তবে সেই ম্যাচে প্রতিপক্ষ ছিল ভিন্ন। কমনওয়েলথ ব্যাংক ক্রিকেট একাডেমির বিপক্ষে ম্যাচে ২ উইকেটে জয় পায় খালেদ মাহমুদ সুজনের দল। এই ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ফিফটির দেখা পান আশরাফুল। আউট হওয়ার আগে খেলেন ৬১ রানের ইনিংস। তবে হাবিবুল বাশার সুমন ছিলেন দুর্দান্ত, দলের টপ পারফর্মার। প্রথম ইনিংসে ১ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করে আউট হন ৯৯ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ১৭ রান। আর আশরাফুল প্রথম ইনিংসে করেছিলেন মাত্র ১ রান।
শেষ প্রস্তুতি ম্যাচের ভেন্যু ছিল ডারউইন। যেখানে হয়েছিল সিরিজের প্রথম টেস্ট। এই ম্যাচেও জয় ২ উইকেটে। প্রথম ইনিংসে সুমন ২ ও আশরাফুল করেন ৮ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে দুজনের ব্যাটে আসে ১২ ও ১১ রান।
আরও পড়ুন
২৩ বছর আগেও অস্ট্রেলিয়ায় জিতেছিল বাংলাদেশ, অথচ এবার ৫৪ রানে অলআউট!
প্রস্তুতি ম্যাচে দল জিতলেও হতাশাজনক পারফরম্যান্স ছিল মূল সিরিজে। সেই হতাশা ভুলে ২৩ বছর পর আবারও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আশরাফুল ও হাবিবুল বাশার। এবার আর খেলোয়াড় হিসেবে নয়, এসেছেন জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের পেছনের কারিগর হিসেবে। দুজনের পূর্ব অভিজ্ঞতাতেই এবার ব্যতিক্রম কিছু করার স্বপ্ন তো থাকবেই।
জিম্বাবুয়ে সিরিজকে বাদ দিলে আশরাফুলের অধীনে ব্যাটাররা ব্যাট হাতে ভালোই পারফর্ম করছে। আশা করা হচ্ছে, এই সিরিজেও বজায় থাকবে সেই ধারাবাহিকতা। অন্যদিকে হাবিবুল বাশারের নির্বাচিত দলটাই ঘরের মাঠে অজিদের ওয়ানডেতে কুপোকাত করেছে। তাই আশা তো করাই যায়, খেলোয়াড়ি জীবনে ব্যর্থ হলেও জাতীয় দলের চাকরির জীবনে আরোবেশি পরিণত দুই সাবেক অধিনায়কই নিজেদের অভিজ্ঞতা ও অনুপ্রেরণামূলক দিক-নির্দেশনায় সফলতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাবে নাজমুল হোসেন শান্তর দলকে।
আইএন