লোহিত সাগর ও ওমান উপসাগরে দুটি জাহাজে হামলার ঘটনায় তিন নাবিক নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) পৃথক দুটি হামলায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। একটি হামলার জন্য ইরান-সমর্থিত হুথিদের সন্দেহ করা হচ্ছে। অন্য জাহাজটি মার্কিন বাহিনীর হামলার শিকার হয়েছে বলে কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে।
লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে মিসরের মালিকানাধীন ‘তিহামাহ’ নামে একটি ছোট পণ্যবাহী জাহাজ হামলার শিকার হয়। এতে দুই পাকিস্তানি ও একজন ইন্দোনেশীয় নাবিক নিহত হয়েছেন বলে ইয়েমেনের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত এই হামলার দায় স্বীকার করেনি হুথিরা। ফলে নিহতের সংখ্যা এবং হামলার সঙ্গে হুতিদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
হামলাটি হুথিদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সত্য হলে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর জাহাজে হুথিদের হামলায় এটিই হবে প্রথম প্রাণহানির ঘটনা।
হামলার পর জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন নাবিকেরা। পরে ইয়েমেনের কোস্টগার্ডের সদস্যরা জাহাজটির কাছে যান বলে ইয়েমেনি সূত্র জানিয়েছে। তবে পরে ইয়েমেনি বাহিনীর সদস্যরাও গুলির মুখে পড়েন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড।
এদিকে, ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যামব্রে জানিয়েছে, হামলার শিকার জাহাজটি সৌদি মালিকানাধীন বা পরিচালিত ছিল না। জাহাজটি শনিবার (৮ আগস্ট) ইয়েমেন সরকারের নিয়ন্ত্রিত আল-মোখা বন্দর থেকে ছেড়ে যায়। বরং জাহাজটির মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে মিসরের কয়েকটি কোম্পানি যুক্ত।
এ বিষয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স মিসরীয় কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
ওমান উপসাগরে আরেক জাহাজে হামলা
একই দিনে পাকিস্তানের উপকূলের কাছে আরেকটি জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। পানামার পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ ‘ভেলা নোভা’ ওমান উপসাগরের দিকে যাওয়ার সময় এই হামলার মুখে পড়ে বলে জানা গেছে।
সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (ডব্লিউএসজে) জানিয়েছে, একটি মার্কিন হেলিকপ্টার থেকে জাহাজটির রাডারে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলের ওপর মার্কিন অবরোধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করায় জাহাজটিকে লক্ষ্য করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
দাবিটি সত্য হলে, এপ্রিলে মার্কিন অবরোধ ঘোষণার পর এটি হবে মার্কিন বাহিনীর হামলায় আক্রান্ত ১২তম জাহাজ। আর ১৪ জুলাই অবরোধ পুনর্বহালের পর এটি হবে তৃতীয় হামলা।
সৌদি আরবকে ঘিরে হুতিদের সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা
এর আগে গত ২০ জুলাই লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে হুথিরা। সৌদি আরবকে ঘিরে অবরোধের প্রতিবাদে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানায় তারা।
তবে ইয়েমেনে কোনো অবরোধ থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে রিয়াদ।
সূত্র: রয়টার্স
এমএসএম