ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় পুলিশের তদন্তে বাদীপক্ষের আপত্তির পর মামলাটি নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার অভিযোগপত্রে তিন আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ তদন্তে না আসায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) অধিকতর তদন্ত করতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগ সূত্রে বিষয়টি জানা গেছে।
আরও পড়ুন
সন্তানের অসুস্থতার কারণে আদালতে যেতে পারেননি পরীমনি, শুনানি পেছালো
পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে মামলার বাদীপক্ষ আদালতে নারাজি আবেদন করে। শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী প্রশান্ত কুমার কর্মকার দাবি করেন, হামলার সময় আসামিরা অস্ত্র প্রদর্শন করে ডিআরইউর সভাপতিকে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন। এছাড়া চায়ের দোকানে ভাঙচুর ও চুরির ঘটনাও ঘটেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে এসব বিষয় উঠে আসেনি বলে আদালতকে জানান তিনি।
আইনজীবীর ভাষ্য, তদন্তকালে প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো আলামতও জব্দ করা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে তদন্ত প্রতিবেদনটি অসম্পূর্ণ উল্লেখ করে মামলাটির পুনরায় ও বিস্তারিত তদন্তের আবেদন জানানো হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদনের শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। এ সময় মামলার কয়েকজন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাদী ও ডিআরইউর প্রশাসনিক কর্মকর্তা সোলাইমান হোসাইনও শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন।
যেভাবে ঘটেছিল হামলা
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২১ মে রাতে সেগুনবাগিচায় ডিআরইউ প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। অভিযোগে বলা হয়, পিস্তল, দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে জাকির হোসেন, বিউটি খাতুন, আদর আক্তার, উদয় হাসান, হৃদয়, অন্তরা, ইমু, রানা, কামাল ও রতনসহ অজ্ঞাতপরিচয় প্রায় ৫০ জন হামলায় অংশ নেন।
হামলায় ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকন, তৎকালীন দপ্তর সম্পাদক রফিক রাফি, সদস্য মশিউর রহমান, মাহবুব হাসান, দেলোয়ার মহিন ও মফিজুল সাদিকসহ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ঘটনার পরদিন ২২ মে ডিআরইউর প্রশাসনিক কর্মকর্তা সোলাইমান হোসাইন শাহবাগ থানায় মামলা করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে আরও প্রায় ৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
তদন্ত শেষে শাহবাগ থানা-পুলিশ তিনজনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে। অন্য সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
বাদীপক্ষ ওই তদন্তে আপত্তি জানিয়ে নারাজি আবেদন করলে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইয়ের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এমডিএএ/এমআরএম