রাজধানীর মৌচাকে স্বেচ্ছাসেবক দলের রমনা থানার সাবেক আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেন তালুকদার হত্যাকাণ্ডের মামলায় গ্রেফতার খাজা হাবিবুল্লাহ হাবিবের জামিন আবেদন নাকচ করেছেন আদালত। ফলে তাকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে খাজা হাবিবের পক্ষে জামিন আবেদন করেন আইনজীবী ইলতুৎমিশ সওদাগর এ্যানী। রাষ্ট্রপক্ষ ওই আবেদনের বিরোধিতা করে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আরও পড়ুন
ঢাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা মডেল থানার পরিদর্শক আতিকুল আলম খন্দকার তাকে আদালতে হাজির করেন। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
আবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে আসামিকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন।
গত ৭ আগস্ট গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) খাজা হাবিবকে গ্রেফতার করে রমনা মডেল থানায় নিয়ে যায়। ওই দিন রাত দেড়টার দিকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে বুধবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, নিহত বিল্লাল হোসেন খাবারের হোটেলের ব্যবসা করতেন। তার ভাগ্নে মোবারক হোসেন ওরফে আকাশ মৌচাকের আনারকলি মার্কেটের ব্যবসায়ী।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামি দিদারুল ইসলাম বাবু ওই মার্কেটের ফুটপাত ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ ও ময়লা পরিষ্কারের বিলের নামে নিয়মিত অর্থ আদায় করতেন। এ নিয়ে মোবারকের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল।
আরও পড়ুন
স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বিল্লাল হত্যা: দুই আসামির রিমান্ড মঞ্জুর
ওই বিরোধের জেরে গত ৮ জুন সন্ধ্যায় মোবারকের বিষয়ে কথা বলার কথা বলে বিল্লালকে আনারকলি মার্কেটের পেছনে ডেকে নেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেখানে দিদারুলসহ অন্য আসামিরা বিল্লালের ওপর হামলা ও মারধর করেন। একপর্যায়ে দিদারুলের নির্দেশে রিয়াজুল ছুরি দিয়ে বিল্লালের বুকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় বিল্লালকে প্রথমে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত পৌনে ১০টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় বিল্লালের স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন বাদী হয়ে রমনা মডেল থানায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।
এমডিএএ/বিএ