ঢাকার সাভারে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির সদস্যরা বোমা তৈরির শক্তিশালী ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা করেছিল বলে জানিয়েছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট। (সিটিটিসি)।
এ ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলার প্রস্তুতি, নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যপদগ্রহণ ও সংগঠনটির আদর্শ-সত্তাকে সমর্থনের অভিযোগে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ছয় থেকে সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সাভার মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করা হয়। মামলার বাদী সিটিটিসির উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আলমগীর হোসেন।
সিটিটিসির এডিসি (ইনভেস্টিগেশন) মাঈন উদ্দীন চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একাধিক ধারা উল্লেখ রয়েছে।
মামলায় আসামিরা হলেন- মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরান (২৬), মো. নাজমুল হাসান মামুন (৩২), মো. আক্কাস আলী (৩০), কামাল হোসেন ডাক্তার (৪৫), বাক্মী (৩০) ও রাকিব (৩০)। এর বাইরে অজ্ঞাতনামা আরও ৬ থেকে ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে নিরাপদে থাকার জন্য সাভারের ওই বাসায় বিভিন্ন সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হচ্ছিল। প্রেসার কুকার, পাইপসহ বোমা তৈরিতে ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন সামগ্রী সেখানে রাখা হয়েছিল। - সিটিটিসির কর্মকর্তা
বোমা তৈরির ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা
সিটিটিসি সূত্র জানায়, গ্রেফতার মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরানকে জিজ্ঞাসাবাদে বোমা তৈরির ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গেছে। নব্য জেএমবির সদস্য নাজমুল হাসান মামুন ওরফে বোমারু মামুন বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কেরানীগঞ্জে একটি আস্তানা গড়ে তোলার পর সাভারে বোমা তৈরির জন্য শক্তিশালী ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিটিটিসির এক কর্মকর্তা বলেন, কেরানীগঞ্জে অসাবধানতাবশত বোমা বিস্ফোরণের পর সাভারে আস্তানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়। সেখানে বোমা তৈরি করে অন্য কোথাও হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল বলে আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন
সেই ‘প্রেশার কুকার বোম’ নিষ্ক্রিয় করেছে বোম ডিস্পোজাল ইউনিট
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে নিরাপদে থাকার জন্য সাভারের ওই বাসায় বিভিন্ন সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হচ্ছিল। প্রেসার কুকার, পাইপসহ বোমা তৈরিতে ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন সামগ্রী সেখানে রাখা হয়েছিল।
নব্য জেএমবির আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তির ক্ষতি সাধনের লক্ষ্যে দেশকে অস্থিতিশীল করে, নাশকতা মূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টা গ্রহণের উদ্দেশ্যে একসঙ্গে মিলিত হয়েছিল আসামিরা। - মামলার এজাহার
পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, নাজমুল হাসান মামুন ওরফে বোমারু মামুন সাভারের ওই বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করলেও সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন না। এ কারণে সাভার ও আশপাশের এলাকায় আরও কোনো আস্তানা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের গাড়িতে হামলার হুমকি
সিটিটিসি সূত্রের দাবি, সম্প্রতি পুলিশের গাড়িতে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন নাজমুল হাসান মামুন ওরফে বোমারু মামুন। ওই হুমকি বাস্তবায়নে কোথায়, কখন এবং কী ধরনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল এসব বিষয়ে গ্রেফতার আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন
সাভারে মসজিদের মাঠে ‘বোমা সদৃশ প্রেসার কুকার’, ব্রিফিং স্থগিত
তবে মামুনের সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে আরিফ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করছে বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা। হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঠিক আগে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের জানানো হতো বলেও প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।
দেশকে অস্থিতিশীল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার চক্রান্ত
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নব্য জেএমবির আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তির ক্ষতি সাধনের লক্ষ্যে দেশকে অস্থিতিশীল করে, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টা গ্রহণের উদ্দেশ্যে একসঙ্গে মিলিত হয়েছিল আসামিরা। তারা বাংলাদেশের অখণ্ডতা, সংহতি, জননিরাপত্তা বা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার জন্য আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য পুলিশ অথবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার চক্রান্ত ছিল।
ভাড়া বাসা থেকে বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার
মামলার এজাহার অনুযায়ী, সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুরের একটি ভাড়া বাসা থেকে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক ও বোমা তৈরিতে ব্যবহারযোগ্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের তরল রাসায়নিক, রাসায়নিক পাউডার, বিস্ফোরক জাতীয় পাউডার, ডেটোনেটর, রিমোট ও কন্ট্রোলার, বৈদ্যুতিক তার, ভোল্টমিটার, স্প্রিং, জিআই তার, বিয়ারিং বল, গ্যাস ক্যান, গ্যাস টর্চ ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি।
এছাড়া পাঁচটি নিষ্ক্রিয় করা পাইপ বোমার ধ্বংসাবশেষ (আইইডি) উদ্ধার করা হয়। এগুলো জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ঘটনাস্থলেই নিরাপদে নিষ্ক্রিয় বা ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন
সাভারে এবার মসজিদের মাঠে বোমা সদৃশ প্রেসার কুকার
জব্দ তালিকায় একটি স্টিল পাইপ ও নাট-বল্টুও রয়েছে, যা পাইপ বোমা তৈরিতে ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাসায়নিক ও ডেটোনেটর
পুলিশের জব্দ তালিকায় চারটি তরল রাসায়নিক ভর্তি বোতল, দুটি ড্রাম, বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পাউডার এবং বিস্ফোরক জাতীয় পাউডারের উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া ‘‘FertiMAX-NK, POTASSIUM NITRATE’’ লেখা একটি প্যাকেট পাওয়া গেছে।
উদ্ধার করা অন্যান্য আলামতের মধ্যে রয়েছে একটি ডেটোনেটর, রিমোট ও কন্ট্রোলার, অসংখ্য বৈদ্যুতিক তার, ভোল্টমিটার, ডিজিটাল ওয়েট মেশিন, ড্রিল মেশিন, জিআই তার ও স্প্রিং।
এছাড়া ‘‘Nitric Acid’’ লেখা একটি কাচের বোতল এবং সালফিউরিক এসিড ৯৮ শতাংশ লেখা একটি প্লাস্টিকের বোতলও উদ্ধার করা হয়েছে।
বিয়ারিং বল ও গ্যাস ক্যান
জব্দ তালিকায় ১০টি পলিথিন জিপার প্যাকেটে থাকা ছোট ছোট সিলভার রঙের বিয়ারিং বলের কথাও উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া ১০ লিটার ধারণক্ষমতার দুটি তরল রাসায়নিকের কন্টেইনার, একটি কাচের জগ, ‘‘SUN ও MOON’’ লেখা দুটি গ্যাস ক্যান, একটি গ্যাস টর্চ এবং ‘‘GTS Galaxy Super Gold’’ লেখা একটি লাল গ্যাস ল্যাম্প উদ্ধার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
সাভারের সেই বাসায় বোমা তৈরি করছিলেন জেএমবি সদস্যরা: পুলিশ
তবে এসব আলামত বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জিহাদ সংক্রান্ত বই উদ্ধার
পুলিশের জব্দ তালিকায় জিহাদ সংক্রান্ত তিনটি বইয়ের কথাও উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে একটি বইয়ের প্রচ্ছদে জিহাদ সংক্রান্ত উৎকৃষ্ট মাসায়েল লেখা রয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরেকটি বইয়ে মোল্লা উমারের মৃত্যু নিয়ে একটি প্রসঙ্গ এবং তৃতীয় বইয়ে সিলসিলাহ এ ঈসমিয়াহ লেখা রয়েছে বলে জব্দ তালিকায় বলা হয়েছে।
চাপাতি, ছুরি ও মোবাইল ফোন
উদ্ধার করা অন্যান্য আলামতের মধ্যে রয়েছে ১২ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের একটি চাপাতি এবং ১০ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের একটি সুইচ গিয়ার নাইফ। এছাড়া সিম ও ব্যাটারিসহ একটি নীল রঙের নকিয়া বাটন মোবাইল ফোন এবং ‘‘WENGER NOBIR’’। লেখা একটি কালো ক্রস-চেস্ট ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে।
রাতভর অভিযান
মামলার এজাহারে ঘটনার সময় ১১ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিট থেকে ১২ আগস্ট রাত ৩টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে।
রাতে তিনজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রাম সেখানে রেখে যান। পরে ড্রামের ভেতর থেকে কালো স্কচটেপে মোড়ানো প্রেসার কুকারটি বের করে মসজিদের মাঠে রাখা হয় এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। - স্থানীয় বাসিন্দা
ঘটনাস্থলের প্রথম স্থান হিসেবে সাভার থানার বাগবাড়ি থেকে ট্যানারীগামী রাস্তার শেষ মাথায় বিসিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্যানারি এস্টেটের পশ্চিম দেয়ালসংলগ্ন বেড়িবাঁধের ওপর বটগাছের নিচের এলাকার কথা বলা হয়েছে। এলাকাটি তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত।
আরও পড়ুন
চার ঘণ্টা পর সাভারের ভবনটিতে অভিযান শুরু
দ্বিতীয় স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুর গুলশান মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসা। এটি আব্দুল জলিলের তিনতলা ভবনের নিচতলার দক্ষিণ পাশের বাসা। মামলার নথি অনুযায়ী, ওই বাসাটি আসামি মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরানের ভাড়া বাসা।
পুলিশ বলছে, উদ্ধার হওয়া আলামত ও আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য যাচাই করে নব্য জেএমবির সদস্যদের পরিকল্পনা, সম্ভাব্য আস্তানা এবং হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে আরও তথ্য বের করার চেষ্টা চলছে।
নব্য জেএমবির সদস্য মামুন মাত্র ২১ বছর বয়সেই বোমা বানানোর অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন। তার বানানো বোমার আত্মঘাতী বিস্ফোরণে ২০১৭ সালে রাজধানীর পান্থপথের হোটেল ওলিওতে সাইফুল ইসলাম নামে এক তরুণ নিহত হন। - পুলিশ কর্মকর্তা
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, রাতে তিনজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রাম সেখানে রেখে যান। পরে ড্রামের ভেতর থেকে কালো স্কচটেপে মোড়ানো প্রেসার কুকারটি বের করে মসজিদের মাঠে রাখা হয় এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়। বুধবার বিকেলে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট এলাকাটি জনশূন্য করে বোমাটি নিয়ন্ত্রিতভাবে নিষ্ক্রিয় করে।
আরও পড়ুন
ককটেল-বোমা তৈরির উপকরণ জব্দ, সাভারে ভবন ঘিরে রেখেছে সিটিটিসি
সাভার মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল আলম বলেন, ১১ আগস্টের ঘটনায় মামলা হয়েছে। যে বাড়ি থেকে বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে, সেটির ভাড়াটে পলাতক। বিষয়টি নিয়ে অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট কাজ করছে এবং তাদের অগ্রগতিও রয়েছে।
৫ অগাস্টের পর মুক্তি পাওয়া কে এই নব্য জেএমবির বোমারু মামুন?
রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক কয়েকটি বিস্ফোরণ ও বোমা উদ্ধারের ঘটনায় নাজমুল হাসান মামুন ওরফে ‘বোমারু মামুন’ নামে একজনকে পুলিশ খুঁজছে, যিনি নয় বছর আগে জঙ্গিবাদের মামলায় গ্রেফতার হয়েও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জামিনে বেরিয়ে যান।
বোমারু মামুন/ছবি: সংগৃহীত
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, নব্য জেএমবির সদস্য মামুন মাত্র ২১ বছর বয়সেই বোমা বানানোর অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন। তার বানানো বোমার আত্মঘাতী বিস্ফোরণে ২০১৭ সালে রাজধানীর পান্থপথের হোটেল ওলিওতে সাইফুল ইসলাম নামে এক তরুণ নিহত হন।
সাভার এলাকায় জঙ্গিদের অবস্থান সম্পর্কে পুলিশের আগে থেকেই কিছু তথ্য ছিল। কেরানীগঞ্জে একটি মাদরাসার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের কেউ কেউ সেখান থেকে এসে সাভার এলাকায় আশ্রয় নিয়েছিল। ওই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ কাজ করছিল। - ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন
চলতি বছরের জানুয়ারিতে হোটেল ওলিও মামলায় মামুনসহ সব আসামিকেই খালাস দেয় ঢাকার একটি আদালত। ওই রায়ে আদালত তাদের বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারবিরোধী নেতাকর্মী হিসেবে বর্ণনা করে।
আরও পড়ুন
সেই ‘প্রেশার কুকার বোম’ নিষ্ক্রিয় করেছে বোম ডিস্পোজাল ইউনিট
সিটিটিসির এডিসি (ইনভেস্টিগেশন) মাঈন উদ্দীন চৌধুরী জানান, মঙ্গলবার রাতে সাভার থেকে মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরান নামের যে যুবককে বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেফতার করা হয়েছে, তার গুরু হচ্ছে বোমারু মামুন।
পুলিশ এখন বলছে, সম্প্রতি যে কয়টি বোমা পাওয়া গেছে ও বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেসবের নাটের গুরু হচ্ছে এই মামুন। তাকে গ্রেফতার করা গেলে অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলবে।
সিটিটিসির কর্মকর্তারা বলছেন, কেরানীগঞ্জে বিস্ফোরণের মামলায় গ্রেফতার আল আমিন, অলি উল্লাহ জনি, শাহীন ওরফে আবু বকর, দর্জি আমিন এরা সবাই একই দলের। আর এদের গুরু হচ্ছেন বোমারু মামুন।
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলছেন, সাভার এলাকায় জঙ্গিদের অবস্থান সম্পর্কে পুলিশের আগে থেকেই কিছু তথ্য ছিল। কেরানীগঞ্জে একটি মাদরাসার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের কেউ কেউ সেখান থেকে এসে সাভার এলাকায় আশ্রয় নিয়েছিল। ওই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ কাজ করছিল। এসবের পাশাপাশি গত মঙ্গলবার বিভিন্ন জায়গায় অনুসন্ধান চালিয়ে বোমা তৈরির অনেক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে এবং সেগুলো সাভারেই ধ্বংস করা হয়েছে।
টিটি/এমআরএম