সাভারে পাইপবোমাসহ বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির সদস্য মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরানকে ছয়দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। পলাতক আসামিদের অবস্থান, সংগঠনের অর্থদাতা ও নির্দেশদাতাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম রিমান্ডের এ আদেশ দেন।
পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাহাজ উদ্দিন বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে ছয়দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
১০ দিনের আবেদন, মঞ্জুর ছয়দিন
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার পরিদর্শক নুর মোহাম্মদ আরিফকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিরা পরস্পরের সঙ্গে যোগসাজশে রাষ্ট্রবিরোধী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্দেশ্যে সংগঠিত হয়েছিল। দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাদের কার্যক্রম চলছিল বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আরও পড়ুন
কেরানীগঞ্জে ব্যর্থ হয়ে সাভারে বোমা ল্যাব, নব্য জেএমবির বড় হামলার ছক!
এছাড়া মামলার অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতার, সংগঠনের অর্থের উৎস, অর্থদাতা, পরামর্শদাতা এবং নির্দেশদাতাদের শনাক্ত করতে আরিফকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান। শুনানি শেষে আদালত তার ছয়দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আরিফের তথ্যেই পাইপবোমা উদ্ধারের দাবি পুলিশের
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার দুপুরে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকা থেকে মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরানকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ তাকে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেছে।
পুলিশের দাবি, গ্রেফতারের পর আরিফের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওইদিন রাতেই সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকায় একটি তিনতলা বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।
আরও পড়ুন
সাভারের সেই বাসায় বোমা তৈরি করছিলেন জেএমবি সদস্যরা: পুলিশ
অভিযানে ওই বাড়ি থেকে ১১টি পাইপবোমা বা ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) এবং বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় সাভার থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করা হয়। মামলায় আরিফসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। এমডিএএ/ইএ