চলতি আগস্ট মাসের শেষ দিকে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা রয়েছে ভারতের। তবে সিরিজটি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড। এরই মধ্যে সফরটি পিছিয়ে যাওয়ার গুঞ্জনও তৈরি হয়েছে। ফলে বাংলাদেশে ভারতের আসন্ন সিরিজের ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ সফরের জন্য এখনো সরকারের সবুজ সংকেত পায়নি ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)। এ বিষয়ে দেশটির সরকারের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে বোর্ড। একই সঙ্গে ভারতের হাই কমিশনের সঙ্গেও আলোচনা চলছে।
বিসিসিআইয়ের এক কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, সরকারের অনুমোদন ছাড়া সফর চূড়ান্ত করার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, \'সরকার অনুমতি দিলে তবেই বাংলাদেশে যাবে ভারতীয় ক্রিকেট দল। আপাতত হাই কমিশনারের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। কিন্তু সরকারের অনুমতির পরেই সবটা চূড়ান্ত হবে।\'
সফরের সূচি নিয়েও এখনো দুই পক্ষের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বিসিসিআইয়ের ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিসিবির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক স্বাভাবিক রয়েছে।
তার ভাষায়, \'বিসিবির সঙ্গে সম্পর্ক আপাতত ঠিকঠাকই রয়েছে। তবে সরকারের থেকে চূড়ান্ত অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছি আমরা। এখনও সিরিজের দিনক্ষণ নির্ধারিত হয়নি। অনুমতি পাওয়া গেলেই দ্রুত সেটি নির্ধারিত হয়ে যাবে।\'
২০২২ সালের পর আর বাংলাদেশ সফরে আসেনি ভারত। দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রভাব ক্রিকেটেও পড়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশে ভারতের একটি নির্ধারিত সিরিজও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
এর মধ্যে চলতি বছরের শুরুতে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাও দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কে তিক্ততা তৈরি করে। যার জেরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যায়নি বাংলাদেশ।
তবে গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। দুই বোর্ডের আলোচনার ভিত্তিতে সেপ্টেম্বরে সিরিজ আয়োজনের পথও তৈরি হয়। তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বিসিবিও সফরটি নিয়ে ইতিবাচক অবস্থান ধরে রেখেছিল।
কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সেই সমীকরণে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সতর্কতা জানানোর পরও ভারতে বসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। এরই মধ্যে ভারতীয় বোর্ডের পক্ষ থেকে সরকারের অনুমতির বিষয়টি সামনে আসায় বাংলাদেশ সফর নিয়ে অপেক্ষা বাড়ছে।
এসকেডি/এমএমআর