পশ্চিমবঙ্গে একজন কংগ্রেস নেতা এবং তার ছেলেকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) ভারতের স্বাধীনতা দিবসের রাতে বাড়ি ফেরার পথে তাদের গাড়ি আটকে প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে কয়েক দফা গুলিও চালানো হয়।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন আনিসুর রহমান ও তার ছেলে আবু সুফিয়ান রহমান। আনিসুর রহমান নদীয়া জেলা কংগ্রেসের সহসভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। এই জোড়া খুনের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আরও পড়ুন
আরজি কর মামলায় তৃণমূলের সাবেক বিধায়কসহ ২ নেতা গ্রেফতার, বিজেপির উল্লাস
জানা গেছে, শনিবার নদীয়া জেলার বেথুয়াডহরি বাজারে জাতীয় কংগ্রেসের কার্যালয়ে ছিলেন আনিসুর রহমান। রাতে পার্টি অফিসে দীর্ঘ সময় থাকার পর ছেলে আবু সুফিয়ানকে সঙ্গে নিয়ে গাড়িতে করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন তিনি।
ফেরার পথে নাগাদি রেলগেটের আন্ডারপাসের কাছে কয়েকজন দুষ্কৃত তাদের গাড়ির গতিরোধ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাবা ও ছেলেকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। পরে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করতে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি চালানো হয়।
হামলার পর বাইকে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতরা। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন
পশ্চিমবঙ্গে পুলিশ হেফাজতে তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত আনিসুর রহমান ও আবু সুফিয়ানকে বেথুয়াডহরি স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
জোড়া খুনের ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর এ ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের হরনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ফতেমা বিবিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক বিরোধ, নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন
বাংলাদেশে পাচারের আগেই অস্ত্রসহ গ্রেফতার দুই কারবারি
জোড়া খুনের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় কংগ্রেসের নেতা ও সাবেক রেলমন্ত্রী অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে আমাদের দলের নেতা ও তার ছেলেকে। আমাদের দলের নেতার ছেলে নিজের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করার জন্য লন্ডনে পড়াশোনা করার চেষ্টা করছিলেন। চলতি মাসেই লন্ডনের একটি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে তার ভর্তি হওয়ার কথা ছিল।
অধীর রঞ্জন চৌধুরী আরও বলেন, বাবার সঙ্গে ছেলেকেও নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো। মৃত্যুকে নিশ্চিত করার জন্য প্রত্যেককে ১৫ থেকে ১৬ রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চরম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ডিডি/কেএএ/