সন্দেহ নেই বাংলাদেশ অসাধারণ খেলেছে। নাজমুল হোসেন শান্তর দল কতটা ভালো খেলেছে? তার যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে গেলে বিশেষণ খুঁজে পাওয়া কঠিন। দারুণ, দুর্দান্ত, চমৎকার, অসাধারণ; যাই বলা হোক না কেন কম হবে।
অস্ট্রেলিয়াকে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এভাবে ৪ দিন পুরো ডমিনেট করে হারানো কঠিন কাজ। ক্রিকেটের অনেক বড় শক্তির পক্ষেও যা সম্ভব হয় না। কিন্তু এবার ডারউইনে প্যাট কামিন্সের দলের বিপক্ষে ব্যাট ও বলে দুর্মনীয় হয়ে উঠে অসি বধ করলো টাইগাররা।
সবাই তাদের করণীয় কাজটা খুব চমৎকারভাবে করে দেখিয়েছেন। বোলাররা, বিশেষ করে ৩ পেসার হাসান মাহমুদ, এবাদত হোসেন ও তাসকিন আহমেদ প্রথম কাজটি করেছেন। তারা ট্রাভিস হেড, স্টিভেন স্মিথ, লাবুশেন, গ্রিনদের দু’শোর নিচে বেঁধে ফেলে বাংলাদেশকে সামনের পায়ে ঠেলে দিয়েছেন। আর তানজিদ তামিম, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম আর মেহেদি হাসান মিরাজরা ৩ ভয়ঙ্কর পেসার জশ হ্যাজেলউড, প্যাট কামিন্স আর মিচেল স্টার্ক এবং নাথান লিয়নের গড়া বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলিং শক্তির বিপক্ষে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে অসিদের ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছেন। মোদ্দা কথা, অসিদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়েই ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে টাইগাররা।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে গিয়ে খুব কম দলই এমন বীরের মতো মাথা তুলে স্বাগতিকদের ধরাশায়ী করতে পেরেছে। সেটা অবশ্যই অনেক বড় কৃতিত্বের। এজন্য পুরো ক্রিকেট বিশ্ব টিম বাংলাদেশকে কৃতিত্ব দিচ্ছে। টাইগার বন্দনায় মাতোয়ারা এখন সবাই। টাইগারদের এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও। শান্তর দলকে রাজ্যজয়ী বীরের সংবর্ধনা দিতে চেয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী।
কিন্তু তারপরও একটা কথা উঠছে। তাহলো, ডারউইনের আবহাওয়া আর উইকেট বাংলাদেশের পক্ষে ছিল। যে কারণে টাইগারদের নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা সহজ হয়েছে। ব্যাটাররা স্বস্তিতে ব্যাট করেছেন। আর বোলাররা নিজেদের উপযোগী কন্ডিশনে বোলিং করে সফল হয়েছেন।
সত্যিই কি তাই? ‘ড্রপ ইন’ পিচ কি টাইগারদের পক্ষে ছিল? ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলের কাছে এ প্রশ্ন রাখা হলে দেশের ক্রিকেটের এ বড় তারা জানান, ‘আমার জীবনে আমি ৩টি টেস্ট ড্রপ ইন পিচে খেলেছি। আমার প্রতিবার যা মনে হয়েছে, এবার ডারউইনেও ঠিক তাই দেখলাম।’
কী দেখলেন? সেটা কী? আশরাফুলের জবাব, ‘ড্রপ ইন উইকেটগুলো সাধারণত এমনই হয়। সেখানে বল যত জোরে করা হয়, ততটা গতিতে ব্যাটে আসে না। তাই নতুন বলটা সারভাইভ করতে পারলে ব্যাটিং করে বেশ মজা পাওয়া যায়।’
ড্রপ ইন উইকেটের আরও একটা বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন আশরাফুল। তিনি বলেন, ‘ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে ড্রপ ইন উইকেটে ময়েশ্চার চলে গেলে খেলা সহজ হয়ে যায়। নতুন বলটা সামলে নিতে পারলে রান করা সহজ হয়।’
উইকেটের বাউন্স নিয়ে টাইগার ব্যাটিং কোচ সরাসরি কিছু মন্তব্য না করলেও চারদিন যারা পাখির চোখে খেলা দেখেছেন, তারা সবাই একমত, মেলবোর্ন, সিডনি, অ্যাডিলেড, পার্থ ও ব্রিসবেনের তুলনায় ডারউইনে ফাস্টবোলারদের বল তত ওঠেনি। সেটাও বাংলাদেশের ব্যাটারদের স্বস্তির কারণ ছিল।
বাংলাদেশের ব্যাটাররা বাড়তি উচ্চতায় লাফিয়ে ওঠা বলে ঠিক স্বচ্ছন্দবোধ করেন না। তার প্রমাণ মিলেছে জিম্বাবুয়ের মাটিতে। জিম্বাবুয়ের হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠের পিচে বল পড়ে বাড়তি বাউন্স করেছে। সে তুলনায় হ্যাজেলউড, কামিন্সের মতো প্রায় ৬ ফুট ৪ থেকে ৫ ইঞ্চি উচ্চতার ফাস্টবোলারের বলও তেমন লাফিয়ে ওঠেনি। যে কারণে তানজিদ তামিম, মুমিনুল, শান্ত ও মিরাজ স্বচ্ছন্দে খেলতে পেরেছেন।
এআরবি/এমএমআর