দেশের শেয়ারবাজারে আবার টানা দরপতন প্রবণতা দেখা দিয়েছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসের মতো দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবারও (১৭ আগস্ট) শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে। এর মাধ্যমে টানা চার কার্যদিবস পতনের মধ্যে থাকলো শেয়ারবাজার।
এদিন প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম কমার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান থাকার পাশাপাশি কমেছে মূল্য সূচক। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।
দিনের লেনদেন শেষে পতন হলেও ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরেুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখীতার দেখা মিলে। ফলে পতন কেটে ঊর্ধমুখী ধারায় ফেরার আশা করতে থাকেন বিনিয়োগকারীরা।
কিন্তু দুপুর সাড়ে ১২টার পর থেকে বাজারে এক প্রকার ঢালাও দরপতন শুরু হয়। যা অব্যাহত থাকে লেনদেনের শেষ পর্যন্ত। এতে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্য সূচকের বড় পতন দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ৫৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ৩১৮টির এবং ১৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৩৩টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৫৮টির দাম কমেছে এবং ৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৬টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬৭টির এবং ১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৯৩টির এবং ১০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর ১টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ৩২টির দাম কমেছে এবং ১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৪৫ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮১৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৮ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৭৫ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৫৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মূল্য সূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৯৯৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ১৩০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ১৩৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে আইপিডিসি ফাইন্যান্সৈর শেয়ার। কোম্পানিটির ৩৫ কোটি ১৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিংয়ের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকার। ৩২ কোটি ১৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বেক্সিমকো।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে-মালেক স্পিনিং, এম এল ডাইং, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, সায়হাম টেক্সটাইল, ফাইন ফুডস, বেঙ্গল উইন্ডসর থার্মোপ্লাস্টিক এবং সামিট এলায়েন্স পোর্ট।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১১১ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৪৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫০টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৬৭টির এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১০৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৭৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা।
এমএএস/এসএনআর