ফেরারির প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ি নিয়ে শুরুতে কম সমালোচনা হয়নি। কেউ বলেছিলেন, গাড়িটি ফেরারির চিরাচরিত নকশা থেকে সরে গেছে। কেউ আবার প্রশ্ন তুলেছিলেন, ব্যাটারিচালিত পাঁচ আসনের গাড়ি আসলেই কি ফেরারি? কিন্তু সেই সমালোচনার একেবারেই ভিন্ন ছবি দেখা গেল নিলামের দিন।
ফেরারির প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘লুসে’ নিলামে বিক্রি হয়েছে চার কোটি ডলারে। নিলাম প্রতিষ্ঠান আরএম সোথেবিজের ক্যালিফোর্নিয়ার নিলামে এই দাম ওঠে। নতুন গাড়ি নিলামে বিক্রির ক্ষেত্রে এটি নতুন রেকর্ড।
দাম কেন এত বেশি
‘লুসে’ নামের গাড়িটি তৈরি হয়েছে বিশেষ নকশা ও কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নিয়ে। নিলামে ওঠা গাড়িটিতে ছিল বিশেষ ধরনের ফিনিশিং।
আরও পড়ুন
এআই-সমৃদ্ধ বৈদ্যুতিক গাড়ি আনলো সনি-হোন্ডা
ছিল আলাদা নকশার চাকা এবং কাস্টমাইজড ব্রেক। এটি ছিল লুসের প্রথম উৎপাদিত গাড়ি।
নিলাম প্রতিষ্ঠান সোথেবিজ বলেছে, এটি গাড়িটির মালিক হওয়ার ‘অতুলনীয় সুযোগ’। তবে গাড়ির ক্রেতার নাম প্রকাশ করা হয়নি।
নিলাম থেকে পাওয়া পুরো অর্থ ফেরারি ফাউন্ডেশনের শিক্ষামূলক কর্মসূচিতে দান করা হবে।
জনি আইভের নকশায় ফেরারি লুসে
ফেরারি লুসের নকশার পেছনে রয়েছেন ব্রিটিশ ডিজাইনার স্যার জনি আইভ। অ্যাপলের আইফোনের নকশার সঙ্গে যার নাম দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়ে, তার ভাবনাতেই তৈরি হয়েছে লুসে।
আরও পড়ুন
প্রথম গাড়ি উন্মোচনের পরপরই ৫০ হাজারের অর্ডার পেলো শাওমি!
গত মে মাসে গাড়িটি উন্মোচনের সময় এটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কারণ, ফেরারির প্রচলিত স্পোর্টসকারের চেহারা ও ধারণা থেকে গাড়িটি বেশ আলাদা।
পাঁচ আসনের পাশাপাশি গাড়িটির সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এর বৈদ্যুতিক চালনা ব্যবস্থা।
ফেরারির জন্য এটি ছিল বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে প্রথম পদক্ষেপ। এই বাজারে বর্তমানে টেসলা ও চীনের গাড়ি নির্মাতারা শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
সমালোচনাও কম হয়নি
লুসে উন্মোচনের পর ফেরারি ভক্তদের একটি অংশ গাড়িটির সমালোচনা করেন। ইতালির উপপ্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনিও ছিলে সমালোচকদের মধ্যে।
ফেরারির সাবেক চেয়ারম্যান লুকা কোরদেরো দি মন্তেজেমোলোও গাড়িটি নিয়ে আপত্তি জানান। তিনি বলেছিলেন, এই গাড়ি ফেরারির কিংবদন্তি ধ্বংসের ঝুঁকি তৈরি করছে।
আরও পড়ুন
জাপানকে টপকে গাড়ি রপ্তানিতে শীর্ষে চীন
গাড়িটি উন্মোচনের পরদিন ফেরারির শেয়ারের দামও কমে যায়। তবে ফেরারির প্রধান ডিজাইন কর্মকর্তা ফ্লাভিও মানজোনি সমালোচনাকে উদ্ভাবনের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে দেখেছেন।
মে মাসে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে মানুষ লুসেকে আরও পছন্দ করতে শুরু করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
ফেরারির গাড়ি মানেই নিলামে বড় দাম
গাড়ির নিলামে ফেরারির উচ্চমূল্যে বিক্রির নজির নতুন নয়। ২০২৫ সালে একটি বিশেষভাবে তৈরি ফেরারি ডেটোনা এসপি৩ নিলামে ২ কোটি ৬০ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছিল। তখন নতুন গাড়ির নিলামে সর্বোচ্চ দামের রেকর্ড গড়েছিল সেটি।
তবে এবার লুসের চার কোটি ডলারের দাম সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেল।
অবশ্য সব ধরনের গাড়ির নিলামে সর্বোচ্চ দামের রেকর্ড এখনো ১৯৫৫ সালের মার্সিডিজ-বেঞ্জ ৩০০ এসএলআর উলেনহাউট কুপের দখলে।
২০২২ সালে বিরল এই গাড়িটি ১৪ কোটি ২০ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছিল।
সূত্র: বিবিসিকেএএ/