ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সালিশ বসিয়ে অভিযুক্তকে সাতবার কান ধরে উঠবস করিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কিশোরীর পরিবার পরে পুলিশের দ্বারস্থ হয়।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ওই কিশোরীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
অভিযুক্ত জাহিদুর ইসলাম (২৪) ফান্দাউক ইউনিয়নের আতুকুরা গ্রামের মাইজম বাড়ি এলাকার সফিল মিয়ার ছেলে।
আরও পড়ুন
ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে বড় বোনকে ধর্ষণের অভিযোগ
পুলিশ ও কিশোরীর পরিবারের ভাষ্যমতে, শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে জাহিদুল ওই কিশোরীকে ডেকে বাড়ির পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে একটি ভাঙা ঘরে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। পরে কিশোরী নিজের শোবার ঘরে ফিরে বিষয়টি বড় বোনকে জানায়। এ ঘটনা কাউকে জানালে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরদিন সকালে কিশোরীর বড় ভাই জাহিদুলকে বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসা করলে জাহিদুল তাকে আক্রমণ করেন। মামলা করলে পরিণতি ভালো হবে না বলেও হুমকি দেন। পরে বিষয়টি স্থানীয় গ্রামের সর্দারকে জানানো হলে সোমবার সকাল ৯টার দিকে বাড়িতে সালিশ বসানো হয়। সালিশে স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্য ফাহিমা খাতুন উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। সেখানে অভিযুক্ত জাহিদুলকে সাতবার কান ধরে ওঠবস করানোর মাধ্যমে বিচার শেষ করা হয়।
ভুক্তভোগী কিশোরীর বড় ভাই বলেন, জাহিদুল কসমেটিকসের ব্যবসা করেন। তার বোন শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী না হলেও অত্যন্ত সহজ-সরল প্রকৃতির। অন্যরা যা বলে, সে তা-ই শোনে এবং করে। অনেক কিছুই সে বুঝতে পারে না। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সিনিয়র স্টাফ নার্স নেহেরা আক্তার বলেন, কিশোরীকে হাসপাতালে ভর্তির পর প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি গাইনি কনসালটেন্টকে জানানো হয়েছে। চিকিৎসকের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আরও পড়ুন
মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ দেওয়ায় বাবাকে কুপিয়ে হত্যা
এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেও মহিলা ইউপি সদস্য ফাহিমা খাতুনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ অভিযোগ করেননি। তবে অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
আবুল হাসনাত মো. রাফি/এসআর/এএসএম