দরপতনের বৃত্তে আটকে গেছে দেশের শেয়ারবাজার। প্রতিদিনেই লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমছে। আগের কার্যদিবসের ধারাবাহিকতায় সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবারও (১৮ আগস্ট) শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে। এর মাধ্যমে টানা পাঁচ কার্যদিবস পতনের বৃত্তে থাকলো শেয়ারবাজার।
এদিন প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ভালো-মন্দ সব খাতেই ঢালাও দরপতন হয়েছে। ফলে দাম কমার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান থাকার পাশাপাশি কমেছে মূল্যসূচক। ঢালাও দরপতনের মধ্যেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ সামান্য বেড়েছে।
দিনের লেনদেন শেষে পতন হলেও ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। এতে পতন কেটে ঊর্ধমুখী ধারায় ফেরার আশা করতে থাকেন বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের সেই আশা বেশি সময় স্থায়ী হয়নি।
দুপুর ১২টার পর থেকে বাজারে ঢালাও দরপতন শুরু হয়। শুরুতে বিমা খাতের কোম্পানি দিয়ে এই দরপতন শুরু হয়। এরপর তার প্রভাব পড়ে অন্যান্য খাতেও। যা অব্যাহত থাকে লেনদেনের শেষ পর্যন্ত। এতে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচকের বড় পতন দিয়ে দিনের লেনদেন শেষ হয়।
আরও পড়ুন
শিগগিরই গেজেট / মার্জিন ঋণে ৫০ শতাংশ ইক্যুইটি বাধ্যতামূলক, ২৫ শতাংশে শেয়ার বিক্রি
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ৭৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২৬৬টির এবং ৪৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৪৬টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১২৯টির দাম কমেছে এবং ২৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৭টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬৫টির এবং ২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৪টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৭২টির এবং ২২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর ১০টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ১২টির দাম কমেছে এবং ১২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৪০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭৭৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এতে পাঁচ কার্যদিবসের টানা পতনে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক কমলো ১৩০ পয়েন্ট।
অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১১ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৬৪ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৫০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মূল্যসূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ সামান্য বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৯৯৮ কোটি ১০ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৯৯৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
আরও পড়ুন
অর্থনৈতিক সুফল দৃশ্যমান নয়, উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় বড় উদ্বেগ
এই লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিংয়ের শেয়ার। কোম্পানিটির ৫২ কোটি ৭৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আইপিডিসি ফাইন্যান্সের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৫১ কোটি ৬৬ লাখ টাকার। ২৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে এনভয় টেক্সটাইল।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- শমরিতা হাসপাতাল, মালেক স্পিনিং, বেক্সিমকো, রানার অটোমোবাইল, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, সায়হাম টেক্সটাইল এবং শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১১০ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৩৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭১টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৩৪টির এবং ৩০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৭৩ কোটি ২২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১০৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
এমএএস/এমকেআর