রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল বন্ধে তিন দফা দাবি জানিয়েছে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন (রোড সেফটি মুভমেন্ট)। সংগঠনটির দাবি, বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ না নিয়ে নিবন্ধন, রুট নির্ধারণ, কারিগরি মান নিয়ন্ত্রণ এবং উৎপাদন-আমদানি বন্ধসহ সমন্বিত ব্যবস্থা নিতে হবে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের সভাপতি আবদুল্লাহ মেহেদি দীপ্ত এসব দাবি জানান।
সম্প্রতি রাজধানীতে অটোরিকশার ধাক্কায় এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। অনিবন্ধিত ও কারিগরিভাবে ত্রুটিপূর্ণ যান, অদক্ষ চালনা এবং মূল সড়কে অবাধ চলাচলের কারণে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এখন সড়ক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংগঠনটি বলছে, এসব যান বিভিন্ন জায়গা থেকে আনা যন্ত্রাংশ দিয়ে স্থানীয়ভাবে ইচ্ছেমতো নকশা ও কাঠামোয় তৈরি হচ্ছে। ফলে ব্রেক, স্টিয়ারিং ও লাইটের মতো গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা উপাদানে ত্রুটি থাকছে। পাশাপাশি লেন না মেনে চলা, উল্টো পথে যাওয়া, যেখানে-সেখানে ইউটার্ন এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার মতো অনিয়মও নিয়মিত দেখা যায়।
সম্প্রতি সরকার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে নিবন্ধনের আওতায় আনা, স্থানীয় সরকারের অধীনে সমন্বিত লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ গঠন এবং ঢাকাকে আটটি জোনে ভাগ করে চলাচলের ব্যবস্থা করার কথা জানিয়েছে।
তবে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মতে, নতুন লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ গঠন না করে বিদ্যমান বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অধীনেই নিবন্ধন ও লাইসেন্স দেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত।
সংগঠনটির ভাষ্য, দেশে এরই মধ্যে যানবাহন নিবন্ধন ও চালকের লাইসেন্স দেওয়ার জন্য বিআরটিএ রয়েছে। নতুন কর্তৃপক্ষ তৈরি হলে প্রশাসনিক জটিলতা বাড়ার পাশাপাশি দুর্নীতির নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। প্রয়োজন হলে বিআরটিএর জনবল ও শাখা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে তারা।
আরও পড়ুন
নিষেধাজ্ঞা নাকি নিয়ন্ত্রণ: ব্যাটারিচালিত রিকশার গন্তব্য কোন পথে?
ঢাকাকে আটটি জোনে ভাগ করার উদ্যোগেরও সমালোচনা করেছে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন। সংগঠনটির দাবি, প্রায় ১ হাজার ৬০০ বর্গকিলোমিটারের রাজধানীকে মাত্র আটটি জোনে ভাগ করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
তাদের মতে, জনবহুল রাজধানীর মূল সড়ক ও মহাসড়ক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলের জন্য উপযোগী নয়। তাই অতি ক্ষুদ্র পরিসরে বিজ্ঞানসম্মত রুট নির্ধারণ করে এসব যান চলাচল সীমিত করতে হবে এবং মূল সড়ক ও মহাসড়কে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে।
তিন দফা দাবি
নতুন কর্তৃপক্ষ গঠন না করে বিআরটিএর অধীনেই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার নিবন্ধন ও লাইসেন্স দিতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিআরটিএর জনবল ও শাখা বাড়াতে হবে।
ঢাকাকে আটটি বড় জোনে ভাগ না করে অতি ক্ষুদ্র পরিসরে বিজ্ঞানসম্মত রুট নির্ধারণ করতে হবে। মূল সড়ক ও মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে।
উৎপাদন ও আমদানি অব্যাহত রেখে এসব যান নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তাই উৎপাদন ও আমদানি বন্ধের পাশাপাশি চালকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিকল্প পেশায় পুনর্বাসন করে আগামী দুই বছরের মধ্যে অবৈধ অটোরিকশা পর্যায়ক্রমে অপসারণ করতে হবে।
সংগঠনটির সভাপতি আবদুল্লাহ মেহেদি দীপ্ত বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সংকটের সমাধান শুধু নিবন্ধন দেওয়ার পদ্ধতি নির্ধারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিক্ষিপ্ত বা আংশিক সিদ্ধান্তে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।
তিনি বলেন, নিবন্ধন ও লাইসেন্সিং, নির্দিষ্ট রুট, কারিগরি মান নিশ্চিত করা, উৎপাদন-আমদানি নিয়ন্ত্রণ এবং চালকদের বিকল্প কর্মসংস্থানে পুনর্বাসন সবগুলো পদক্ষেপ সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। তবেই সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার বন্ধ করা সম্ভব।
এমএমএ/এমআইএইচএস