২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচারণাকালে বিএনপির তৎকালীন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা হয়। ওই ঘটনায় করা মামলায় তেজগাঁও থানা শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. আবুল কাশেম পাটোয়ারী ওরফে ‘হাতকাটা কাশেম’কে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর উভয় পক্ষের শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আবদুল হান্নান আবুল কাশেমকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে তার আইনজীবী মনির হোসেন সুমন জামিন চেয়ে আবেদন করেন। পরে উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আরও পড়ুন
শর্টকাটে অনেকেই এখন আইনজীবী হচ্ছেন: আইনমন্ত্রী
তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল হান্নান জানান, এ মামলায় আবুল কাশেম ৪৯ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি। মামলাটিতে মোট ১০৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দ্রুত রিমান্ড আবেদন করা হবে বলেও জানান তিনি।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের পক্ষে প্রচারণায় নামেন খালেদা জিয়া। রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় তার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে।
অভিযোগে বলা হয়, নির্বাচনি প্রচারণায় বাধা দিতে এবং হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এ সময় ভাঙচুরের পাশাপাশি কয়েকজনকে মারাত্মকভাবে আহত করা হয়।
আরও পড়ুন
বিচার বিভাগ এখন অনেক বেশি স্বাধীন পরিবেশে কাজ করতে পারছে
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট মো. বেল্লাল হোসেন বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় মামলা করেন। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকা থেকে মামলার ৪৯ নম্বর আসামি আবুল কাশেম পাটোয়ারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, মামলার অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতার, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আবুল কাশেমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে তেজগাঁও, গুলশান ও মানিকগঞ্জ সদর থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, হত্যাচেষ্টা এবং দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ বিভিন্ন অভিযোগে আরও কয়েকটি মামলা বিচারাধীন।
এমডিএএ/কেএসআর