কলকাতার পার্ক স্ট্রিট এলাকার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত নয় বাংলাদেশির একজন সাভারের আমিনবাজারের ব্যবসায়ী আহমেদ বাবু (৩০)। চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক কাজে মাত্র দুই দিন আগে কলকাতায় গিয়েছিলেন তিনি।
বুধবার (১৯ আগস্ট) তার মৃত্যুর খবর পরিবারকে জানানো হলে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। ছোট্ট দুই সন্তানকে নিয়ে বাবুর স্ত্রীর আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সাভার উপজেলার আমিনবাজার ইউনিয়নের বেগুনবাড়ী শিকদারপাড়া এলাকার মৃত আদম আলীর চার ছেলের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিলেন আহমেদ বাবু। তিনি আমিনবাজারের এম এ হোসেন টাওয়ারের মসজিদ মার্কেটে ‘কিউট কসমেটিক্স’ নামে একটি দোকান পরিচালনা করতেন।
দীর্ঘ দুই বছর পর ভারতের ভিসা পেয়ে গত সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক মালামাল কিনতে কলকাতায় যান আহমেদ বাবু। সেখানে পার্ক স্ট্রিটের কাছাকাছি ‘শিখা ইন’ নামের একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন তিনি। ওই হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নয় বাংলাদেশির মধ্যে আহমেদ বাবুও রয়েছেন।
বুধবার দুপুরে ভারতীয় হাইকমিশন থেকে মোবাইল ফোনে আহমেদ বাবুর পরিবারকে তার মৃত্যুর বিষয়টি জানানো হয়। পরে তার ছবি পাঠানো হলে স্বজনরা পরিচয় নিশ্চিত করেন।
এদিকে আহমেদ বাবুর মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্ত্রী, নয় বছরের এক মেয়ে ও চার বছরের এক শিশুসন্তানসহ অসংখ্য স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন তিনি। শিশুদের কান্না ও স্বজনদের আহাজারিতে বেগুনবাড়ী এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
আমিনবাজার ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইউসুফ হোসেন বলেন, ‘ছেলেটাকে আমরা চিনি। সে মসজিদ মার্কেটে কসমেটিক্সের দোকান করত। দুই দিন আগে চিকিৎসার জন্য ভারতে গেছে বলে আমরা জানতাম। আজ তার মৃত্যুর খবর পেয়েছি। আমরা তাদের বাড়িতে যাচ্ছি। যতটুকু সহযোগিতা করা যায়, করব।’
নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার ও ভারতীয় হাইকমিশনের জরুরি সহযোগিতা চেয়েছে আহমেদ বাবুর পরিবার।
মাহফুজুর রহমান নিপু/কেএইচকে/জেআইএম