বিদেশ থেকে পরিচালিত অনলাইন জুয়া (বেটিং) সাইটের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ অবৈধভাবে বিদেশে পাচারের অভিযোগে চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য জানান। গ্রেফতাররা হলেন- সৈয়দ জামান (২৭) এবং রুহুল কুদ্দুস ওরফে বাপ্পী (২৮)।
গতকাল (বুধবার) রাজশাহী ও ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
জসীম উদ্দিন খান বলেন, নিয়মিত সাইবার মনিটরিং করাকালীন দেখা যায় দেশের অভ্যন্তর ও বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন জুয়া ওয়েবসাইটের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ অন্যান্য খেলা ও অনলাইন ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করে টাকার বিনিময়ে বেটিং পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, বেটিং সাইটে ব্যবহৃত বিভিন্ন এজেন্টদের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ব্যাংক হিসাবসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করে সিআইডি
আরও পড়ুন
এক মাসে ১০৪ অস্ত্র উদ্ধার, গ্রেফতার ৬০: র্যাব
বাদী হয়ে পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন মামলা করে। পরে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানতে পারে, গ্রেফতার অভিযুক্তরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনলাইন জুয়ার এজেন্ট নিয়োগ করে তাদের এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করে সেগুলো বেটিং সাইটে ব্যবহার করে আসছিল। জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত এজেন্টরা তাদের কমিশন কেটে রাখার পর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে অর্থ পাচার করে আসছিল বলে তথ্য পাওয়া যায়। মামলার তদন্তে অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্মে ব্যবহৃত এজেন্ট নম্বরের সূত্র ধরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, রাশিয়া থেকে নিয়ন্ত্রিত একটি অনলাইন জুয়া সাইটের অ্যাডমিন ছিলেন সৈয়দ জামান। তদন্তে দেশের অভ্যন্তর ও বিদেশ থেকে পরিচালিত অনলাইন বেটিং সাইটের কার্যক্রম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব সাইটের বিজ্ঞাপন প্রচারের তথ্য পাওয়া যায়। এসব সাইটে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে অর্থের বিনিময়ে অনলাইন বেটিং এবং অনলাইন ক্যাসিনো পরিচালনা করা হচ্ছিল। গ্রেফতাররা দেশের ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় অনলাইন জুয়ার এজেন্ট নিয়োগ করে তাদের এমএফএস নম্বর ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করে অনলাইন বেটিং সাইটে যুক্ত করতেন। এসব নম্বর ও হিসাবের মাধ্যমে জুয়ায় অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ এবং অর্থ উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হতো। পরবর্তীতে অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে এজেন্টরা নিজেদের কমিশন কেটে রাখার পর অবশিষ্ট অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করতেন।
গ্রেফতাররা নিজ নামে নিবন্ধিত এজেন্ট সিম অনলাইন জুয়া সাইটে সক্রিয় করার পাশাপাশি বিভিন্ন এজেন্টের সিম সংগ্রহ করে ওয়েবসাইটে যুক্ত করতেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, তারা অনলাইন জুয়া সাইটের অর্থ জমা ও উত্তোলন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে জড়িত ছিলেন বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া যায়। একই মামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে এর আগে বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে সিআইডি মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে।
কেআর/এএমএ