দরপতনের বৃত্ত থেকে বের হয়েছে দেশের শেয়ারবাজার। টানা ছয় কার্যদিবস পতনের পর সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্য সূচক কিছুটা বেড়েছে। তবে লেনদেন কমে সাড়ে ৪ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গেছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে দাম বাড়ার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান থাকলেও অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠান। ফলে কমেছে প্রধান মূল্য সূচক। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।
এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার দেখা মিলে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। ফলে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি প্রধান মূল্য সূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৯২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১২৭টির এবং ৭১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
আরও পড়ুন
শেয়ারবাজারে দরপতন চলছেই, তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১১৯টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৫২টির দাম কমেছে এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৩১টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৭টির এবং ৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪২টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৮টির এবং ৩৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর ১৭টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ২টির দাম কমেছে এবং ১৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৭৮৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৪৪ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৬২ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৫৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
আরও পড়ুন
শেয়ারবাজারে ফের ঢালাও দরপতন
প্রধান মূল্য সূচক বাড়লেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৬৭১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৭৩২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৬০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে চলতি বছরের ৭ এপ্রিলের পর ডিএসইতে সব থেকে কম লেনদেন হলো। ৭ এপ্রিল ডিএসইতে লেনদেন হয় ৫৯৭ কোটি ১ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার। কোম্পানিটির ২০ কোটি ৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা টেকনো ড্রাগসের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকার। ১৬ কোটি ১৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল।
আরও পড়ুন
পুঁজিবাজারে সার্কিট ব্রেকার নির্ধারণের ক্ষমতা পেলো ডিএসই ও সিএসই
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—শিকদার ইন্স্যুরেন্স, রানার অটোমোবাইল, সাউথইস্ট ব্যাংক, এনভয় টেক্সটাইল, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, মালেক স্পিনিং এবং রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ২ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৬টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৮৭টির এবং ৩৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৩৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা।
এমএএস/এমএমকে