ভারতের কলকাতায় আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ তার চার স্বজনের মরদেহ শনিবার দেশে আনা হতে পারে। বৃহস্পতিবার তাদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছ থেকে মরদেহ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের পর বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে স্বজনদের কাছে মরদেহ বুঝিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে মরদেহ হস্তান্তর করা হলে স্বজনদের কাছে তা বুঝিয়ে দেওয়া হবে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেই মরদেহ দেশে আনার যাবতীয় খরচ বহন করা হচ্ছে।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া থেকে কলকাতায় পৌঁছেছেন দেবাশীষ দত্তের ভায়রা ফিরোজ হাসান। তার মরদেহ গ্রহণের কথা রয়েছে। এছাড়া কলকাতায় থাকা দেবাশীষের আত্মীয় সঞ্চয় ঘোষ ও ভগ্নিপতির ভাই কাঞ্চন নন্দীও মরদেহ গ্রহণের প্রক্রিয়ায় রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেবাশীষ দত্তসহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত নয়জনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব (রাজনৈতিক) মো. ওমর ফারুক আকন্দ ও দূতাবাসের কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ মরদেহগুলো দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া তদারকি করছেন।
কলকাতায় অবস্থানরত নিহতদের স্বজনরা জানান, চারটি মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় আড়াই লাখ রুপি খরচ হতে পারে। পরিবারের পক্ষে এ অর্থ বহন করা কঠিন হওয়ায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় মরদেহ দেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত চারজনের সৎকার ও দাফনের জন্য প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাকির হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের মরদেহ বিনামূল্যে সৎকারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ ছাড়া দেবাশীষ দত্ত ও আফসানা শারমীন দম্পতির জীবিত একমাত্র সন্তান মহিমা দত্তের এইচএসসি পর্যন্ত পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দেবাশীষ দত্ত ও তার তিন বছর বয়সী ছেলে স্বর্ণশীষ দত্তের মরদেহ হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সৎকার করা হবে। স্ত্রী আফসানা শারমীন ও দেবাশীষের শ্বশুর আকরাম হোসেনের মরদেহ ইসলামী রীতি অনুযায়ী জানাজা ও দাফন করা হবে।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার গভীর রাতে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ১৫ জি মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি ও দুজন ভারতীয় নাগরিক। নিহত দেবাশীষ দত্ত চ্যানেল নাইন ও আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি এবং কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন। তিনি কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন।
আল-মামুন সাগর/কেএইচকে/জেআইএম