খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানার হরিণটানা ৮০ বিঘা এলাকায় আলোচিত জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আলামিন হাসান সাইফি, তার সহযোগী রাকিব ও সাগর আহমেদকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৬। এ সময় তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি শটগান, একটি পিস্তল ও তিনটি দেশীয় চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) গোপালগঞ্জ সদর থানাধীন মাঝিগাতী রাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি শুক্রবার রাতে র্যাব-৬ নিশ্চিত করেছে এবং শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে র্যাব-৬- আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়। প্রেস ব্রিফিং করেন র্যাব-৬ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৯ আগস্ট খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানাধীন হরিণটানা ৮০ বিঘা এলাকায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই যুবক মো. মঞ্জুরুল ইসলাম (২৩) ও মো. নাজমুলকে (১৮) গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব-৬। এরপর সন্ত্রাসী আল আমিন হাসান সাইফি ও তার সন্ত্রাসী দলের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। এরপর তাকে গ্রেফতারে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
আরও পড়ুন
খুলনার লবণচরায় ৩ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই যুবককে গুলি করে হত্যা
পরবর্তীতে গোপালগঞ্জের মাঝিগাতী রাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাইফি ও তার সহযোগী রাকিবকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফি ও রাকিব হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। নিহত নাজমুল তার দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। অন্যদিকে নিহত মঞ্জুরুল প্রতিপক্ষ ‘রোহান পলাশ’ গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলো।
র্যাব জানায়, প্রতিপক্ষের সদস্য নাজমুলকে রাকিব আটক করে ভিডিও কলে রাখার পর তাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। এর জেরে সাইফি ও তার দলের ১৫-১৬ জন সদস্য আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হরিণটানার ৮০ বিঘা এলাকায় যায়। সেখানে প্রতিপক্ষের সদস্য মঞ্জুরুলকে তার বাবার সামনে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এখানে দুই পক্ষের অন্তঃকোন্দল, আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা ও শক্তি প্রদর্শনের প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করেই জোড়া হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটেছে।
আরিফুর রহমান/এসজেডএইচ/এএসএম