ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে যোগ দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। মাহমুদ আব্বাসকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্র তাকে ভিসা না দিলে টানা দ্বিতীয় বছরের মত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে পারবেন না আব্বাস। সম্প্রতি মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এমন সংবাদ প্রকাশ করেছে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল।
তবে, এমন খবরের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ না পাওয়ার কথা জানিয়েছে জাতিসংঘ। শুক্রবার (২১ আগস্ট) জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক সাংবাদিকদের বলেন, রাষ্ট্রপ্রধান ও অন্যান্য উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ভিসা আবেদন সংক্রান্ত বিষয় পরিচালনা করে আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র; বিষয়টি জাতিসংঘের এখতিয়ারে নেই।
স্টেফান দুজারিক বলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাইনি। তবে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পর্কে জাতিসংঘ অবগত রয়েছে।
টাইমস অব ইসরায়েল সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, গত বছরও মাহমুদ আব্বাসকে ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় ওয়াশিংটনের অভিযোগ করেছিল, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এমন কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে যা শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। কিন্তু রামাল্লার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট অভিযোগগুলো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ওই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত সমাধানে দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান পিছিয়ে যায়। তখন দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের জন্য একটি সম্মেলনের আয়োজন করেছিল ফ্রান্স ও সৌদি আরব। পরে, গত বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনের আগে ওই সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এর বিরোধিতা করে দাবি করেছিল, সম্মেলনটি হামাসকে পুরস্কৃত করছে এবং গাজা যুদ্ধের অবসানের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ বছর জাতিসংঘে এ ধরনের কোনো সম্মেলনের আয়োজন না থাকলেও আব্বাসকে ভিসা না দেওয়ার ক্ষেত্রে গত বছরের সিদ্ধান্তই বহাল রাখার পরিকল্পনা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
এ বিষয়ে জাতিসংঘের অবস্থান নিয়ে স্টেফিন দুজারিক জানান, আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত হোস্ট কান্ট্রি চুক্তির অধীনে তার দায়িত্ব পালন করা। এই চুক্তির উদ্দেশ্য জাতিসংঘের কার্যক্রমে অংশ নিতে নিউইয়র্কে আসা কূটনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রবেশ সহজ করা। অতীতেও আয়োজক দেশ ভিসা প্রত্যাখ্যানের ঘটনা ঘটেছে। তবে জাতিসংঘ আশা করে, যুক্তরাষ্ট্র হোস্ট কান্ট্রি চুক্তির অধীনে তার দায়িত্ব পালন করবে।
বিদেশি কর্মকর্তাদের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ জাতিসংঘের স্বাধীনতায় প্রভাব ফেলতে পারে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে দুজারিক বলেন, এ ধরনের বিষয় আগেও উঠেছে, রুশ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বিরোধের ক্ষেত্রেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
কেএম