পেশাদার ফুটবলে ২৫তম মৌসুম শুরু করলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। আর নতুন মৌসুমের শুরুতেই নিজের গোলসংখ্যা নিয়ে গেলেন আরও এক ধাপ সামনে। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে গোল করে আল নাসরকে বড় জয় এনে দেওয়ার পাশাপাশি ক্যারিয়ারের ৯৭৭তম গোল পূর্ণ করেছেন পর্তুগিজ মহাতারকা।
শুক্রবার সৌদি প্রো লিগের ম্যাচে আল রিয়াদের বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয় পেয়েছে আল নাসর। ম্যাচের শুরুতে বেঞ্চে ছিলেন রোনালদো। বিশ্বকাপের পর এই প্রথম আল নাসরের স্কোয়াডে ফিরেছিলেন ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। সম্প্রতি বিয়েও করেছেন তিনি। নতুন কোচ অ্যাঙ্গে পোস্তেকগ্লুর অধীনে প্রথমবার মাঠে নামার অপেক্ষায় ছিলেন রোনালদো।
৬২তম মিনিটে মাঠে নামানো হয় রোনালদোকে। ততক্ষণে অবশ্য ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছিল আল নাসর। তার মাঠে নামার আগেই তিন গোলের লিড পেয়ে যায় দলটি। আবদুলেলাহ আল-আমরি, অ্যাঞ্জেলো গ্যাব্রিয়েল ও হোয়াও ফেলিক্স গোল করে আল নাসরকে এগিয়ে দেন।
বদলি হিসেবে মাঠে নামার পর বাকি সময়টায় ন রোনালদো গোলের জন্য বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ শেষ হওয়ার সাত মিনিট আগে আসে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত।
আইমান ইয়াহিয়ার দেওয়া নিচু ক্রস বক্সের ভেতর পেয়ে যান রোনালদো। দারুণ নিয়ন্ত্রণে বলটি নিজের দিকে টেনে এনে আট গজ দূর থেকে নিখুঁতভাবে শট নেন তিনি। বল জড়িয়ে যায় জালে। সতীর্থদের সঙ্গে গোল উদ্যাপনে মেতে ওঠেন পর্তুগিজ তারকা।
এই গোলের মাধ্যমে ক্যারিয়ারের গোলসংখ্যা ৯৭৭-এ নিয়ে গেলেন সিআর সেভেন। অর্থাৎ বহুল আলোচিত ১ হাজার গোলের মাইলফলক থেকে এখন তার দূরত্ব মাত্র ২৩ গোল।
আল নাসরের হয়ে এটি ছিল রোনালদোর ১৩০তম গোল। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে সৌদি ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার পর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এ গোলগুলো করেছেন তিনি।
বিশ্বকাপের পর আল নাসরের হয়ে মাঠে দেখা যায়নি রোনালদোকে। গত সপ্তাহে আল ফাতেহর বিপক্ষে লিগের উদ্বোধনী ম্যাচেও ছিলেন না তিনি। এমনকি মঙ্গলবার আল দিরিয়াহর বিপক্ষে কিংস কাপের ম্যাচেও খেলেননি। ফলে আল রিয়াদের বিপক্ষের ম্যাচটি ছিল তার প্রত্যাবর্তনের ম্যাচ।
শুরুতে বেঞ্চে থাকলেও শেষ পর্যন্ত নিজের স্বভাবসুলভ গোলের দেখা পেয়েছেন রোনালদো। নতুন কোচ পোস্টেকগ্লুর অধীনে এটিই তার প্রথম ম্যাচ। আর সেই ম্যাচেই গোল করে নতুন মৌসুমের শুরুটা স্মরণীয় করে রাখলেন ফুটবলের এই মহাতারকা।
৪১ বছর বয়সেও রোনালদোর গোলের ক্ষুধা যে এতটুকু কমেনি, ৯৭৭তম গোলটি যেন তারই আরেকটি প্রমাণ। এখন তার সামনে আরও বড় লক্ষ্য- ক্যারিয়ারের ১ হাজার গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলক।
আইএইচএস/