চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বের করা জশনে জুলুসের মিছিলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
শনিবার (২২ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বাঁশখালী পৌরসভার ভাদালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার শেষ প্রান্তে সরল ইউনিয়নের সংযোগস্থলে ঈদে মিলাদুন্নবীর জশনে জুলুস বের করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সুন্নি আলেম-ওলামা ও অনুসারীরা। এ সময় আশপাশের এলাকা থেকে অটোরিকশা, পিকআপ ও জিপে করে কয়েকশ মানুষ সেখানে জড়ো হন।
আরও পড়ুন
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ২৬ আগস্ট
মিছিল শুরুর ঠিক আগে স্থানীয় একটি কওমি মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কওমিপন্থিরা এতে আপত্তি জানান। মাদরাসার সামনের সড়ক দিয়ে জুলুস বা মিছিল যেতে দেওয়া হবে না বলে তারা দাবি করেন।
এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও সুন্নি অনুসারীরা ঘটনাস্থলে আসতে থাকেন।
সংঘর্ষের আশঙ্কায় ভাদালিয়া বাজারের ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন। একপর্যায়ে কওমিপন্থিরা মাদরাসার সামনে এবং জুলুসে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা পাশের পুকুরপাড়ে অবস্থান নেন।
খবর পেয়ে বাঁশখালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই পক্ষের মাঝখানে অবস্থান নেয়। পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বাঁশখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুধাংশু শেখর হালদার বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবীর মিছিলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে পুরোনো বিরোধের জেরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আপাতত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
আরও পড়ুন
ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি
বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক বলেন, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
তিনি বলেন, দুই পক্ষের মতপার্থক্য ও ক্ষোভ নিরসনে রোববার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পুলিশের উপস্থিতিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের আশা করছি।
এমআরএএইচ/ইএ