নানা নাটকীয়তার পর অবশেষে গ্রেফতার হলেন কলকাতার নিউমার্কেটের ‘শিখা ইন’ হোটেলের মালিক বীরেশ্বর মিত্র। কলকাতা পুলিশ সদর দপ্তর লাল বাজার পুলিশের স্পেশাল ফোর্স ও বেলাহালি থানার পুলিশের যৌথ অভিযানের মাধ্যমে বীরেশ্বর মিত্রকে গ্রেফতার করা হয়। ২৯৩/৪ ডায়মন্ড হারবার রোড,বেহালা, কলকাতা-৩৪ অবস্থিত বীরেশ্বর মিত্রের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
কলকাতা পুলিশ সূত্র জানায়, ঘটনার পরপরই আত্মগোপন করেছিলেন বীরেশ্বর মিত্র। অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে হোটেলের তিনি নিজের গাড়িতে করে কলকাতা থেকে পালিয়ে ঝাড়খণ্ডের ধানবাদে আত্মগোপন করেন। গতকাল শনিবার (২২ আগষ্ট) কলকাতার ডায়মন্ড হারবার রোড বেহালার বাড়িতে ফিরলে তাকে গ্ৰেফতার করে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার কলকাতার নিউমার্কেটের শিখা ইন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নয় জনের মৃত্যু হয়।যার মধ্যে ৭ জন বাংলাদেশি নাগরিক এবং দুই জন ভারতীয় নাগরিক। ঘটনার পর থেকেই বীরেশ্বর মিত্র খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলো না।
এর মধ্যেই \'শিখা ইন আবাসিক হোটেলের লিজ হোল্ডার প্রধান অভিযুক্ত আবু জাফর-কে গ্ৰেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় এবার বীরেশ্বর মিত্র-কে গ্রেফতার করা হয়।
তবে, ঘটনার পর পালিয়ে গেলেও এত দিন পর আবার কেন নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন বীরেশ্বর মিত্র তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে এও জানা গেছে, এরই মধ্যে বীরেশ্বরের দুটি ব্যাংক একাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছিল।
কলকাতা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস থেকে শিখা ইন হোটেলকে বিপদজনক বাড়ি হিসেবে নোটিশ টানিয়ে দেওয়া হয়েছে,
কলকাতার মিনি বাংলাদেশে পরিচিত এই নিউ মার্কেটের কলিন স্ট্রিট, মির্জা গালিব স্ট্রীট, ফ্রী স্কুল স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, মার্কুইস স্ট্রিট সহ একাধিক জায়গায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার থেকে ১,২০০ হোটেল রয়েছে। নিউমার্কেটের মতো ঘিঞ্জি এলাকায় বেশিরভাগ ভবনই অনেক বছরের পুরোনো।
এসব পুরাতন ভবনেই বাহারি নামে ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠেছে এসব হোটেল। বাইরে ব্যানার-সাইনবোর্ডের চাকচিক্য থাকলেও নিরাপত্তা-সুরক্ষায় কোন বালাই নেই। এর পাশাপাশি হোটেলগুলোতে নজরদারিও অভাব রয়েছে।
ডিডি/কেএম