রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদারে ‘২+২’ সংলাপ করছে চীন ও ইন্দোনেশিয়া। যৌথ সামরিক মহড়া, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলে অঙ্গীকার করেছে।
দুই পক্ষ ‘২+২’ সংলাপ ব্যবস্থার প্রশংসা করে এটিকে কৌশলগত যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে উভয় দেশ পারস্পরিক সংহতি ও সমন্বয় আরও গভীর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে সমন্বয় জোরদার এবং সংঘাত বন্ধে ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।
চীন-ইন্দোনেশিয়া যৌথ পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপটি জাকার্তায় অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী দং জুন এবং ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুগিয়োনো ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্জাফরি স্জামসোয়েদ্দিন অংশ নেন। এই সংলাপের দ্বিতীয় বৈঠকে এ অঙ্গীকার করা হয় বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে চায়না ডেইলি।
চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, দুই পক্ষ উন্নয়ন ও নিরাপত্তার মধ্যে আরও ভালো সমন্বয় এবং বিভিন্ন বহিরাগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছে। দুই দেশ নিজেদের মধ্যে নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের ধারণা আরও শক্তিশালী, নিজ নিজ মূল স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরস্পরকে সমর্থন এবং বাহ্যিক হস্তক্ষেপের যৌথ বিরোধিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা জোরদার, পলাতক আসামি ও অবৈধ সম্পদ ফেরত আনা এবং টেলিযোগাযোগ ও অনলাইন জালিয়াতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় অংশ নেওয়ার বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে।
প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি, যৌথ সামরিক মহড়া এবং প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়মিত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা চালুর বিষয়েও চুক্তিতে পৌঁছেছে দুই দেশ।
এদিকে, সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা-সংক্রান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে তারা। এর পাশাপাশি দক্ষিণ চীন সাগরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে চীন ও ইন্দোনেশিয়া।
কেএম