কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে এক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সজল নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিশ বসিয়ে অভিযুক্তকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং এলাকাবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ানো হয়েছে। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি বাগপাড়া গ্রামের একটি জঙ্গলে ওই কিশোরীকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে জব্বার মিয়ার ছেলে সজলের বিরুদ্ধে। সেখানে কিশোরীর ওপর যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনাটি কিশোরীর এক স্বজন দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে তারা সজলকে আটক করে রাখেন। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় আধা ঘণ্টা পর সজলের মেয়ের জামাই ঘটনাস্থলে এসে তাকে নিয়ে যান।
পরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মুরুব্বি ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে সজলকে সামাজিকভাবে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং এলাকাবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ানো হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, জরিমানার টাকা এখনো পরিশোধ করা হয়নি। আগামী মঙ্গল বা বুধবারের মধ্যে ওই টাকা দেওয়ার কথা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই কিশোরীর বাবা প্রায় ১০ বছর আগে মারা যান। প্রায় তিন বছর আগে মারা যান তার মা। বর্তমানে বাবা-মা হারা ওই কিশোরী বড় বোনের সঙ্গে থাকেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য জুনায়েদ তুর্য বলেন, তিনি সালিশে উপস্থিত ছিলেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে এলাকাবাসীকে নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছেন।
জাফরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাদাৎ মো. সায়েম বলেন, বিষয়টি তাকে কেউ জানায়নি। ফেসবুকে ভিডিও দেখে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। বর্তমান ওয়ার্ড সদস্য ও এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের উদ্যোগে সালিশ করেছেন। ভুক্তভোগী পরিবার বা ইউপি সদস্য কেউই তাকে বিষয়টি জানাননি।
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খানের সাথে শনিবার (২২ আগস্ট) দিবাগত রাতে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে রোববার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কথা হলে তিনি বলেন, রাতেই অভিযুক্তকে তার বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে।
এসকে রাসেল/কেজে/জেআইএম