এমকে হক, জার্মানি
জার্মানিতে আসার পর প্রথম কয়েক বছর আমি একটি ভুল করতাম- অন্য মানুষ কত দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, তা দেখতাম। কে ভালো চাকরি পেলেন, কে বেশি বেতন পাচ্ছেন, কে গাড়ি বা বাড়ি কিনলেন- এসব দেখে নিজের জীবনকে বিচার করতাম। আর তারপর নিজের দিকে তাকিয়ে মনে হতো, আমি হয়তো অনেক পিছিয়ে আছি।
একদিন পুরোনো কিছু ছবি আর কাগজপত্র দেখতে বসেছিলাম। প্রথম জার্মানিতে আসার সময় কোথায় ছিলাম, কী জানতাম, কী নিয়ে ভয় পেতাম- সব মনে পড়তে লাগলো। তখন একটি বিষয় উপলব্ধি করলাম। অন্যের সঙ্গে নিজের বর্তমান অবস্থার তুলনা করতে গিয়ে আমি নিজের পাঁচ বছরের জার্নিটাই ভুলে গিয়েছিলাম! যে জিনিসগুলো আজ আমার কাছে স্বাভাবিক, সেগুলোর অনেকগুলো একসময় অসম্ভব মনে হতো।
নতুন দেশে সবকিছু বুঝে নেওয়া, ক্যারিয়ার তৈরি করা, নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া- এসব কোনো কিছুই একদিনে হয় না। যেহেতু প্রতিদিন একটু একটু করে করেছি, তাই পরিবর্তনটা চোখে পড়েনি। এটি অনেকটা সিঁড়ি দিয়ে ওঠার মতো; প্রতিটা সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে শুধু ওপরের দিকে তাকালে মনে হবে অনেক দূর যেতে হবে, কিন্তু পেছনে তাকালে বোঝা যায় কতটা ওপরে উঠে আসা গেছে।
আরও পড়ুন
ক্যালগেরিতে মেতে উঠল জাবি পরিবার
আমরা যেখানে পৌঁছাতে চাই, সেটা এত বড় করে দেখি যে যেখান থেকে শুরু করেছিলাম তা ভুলে যাই। এতে নিজের অর্জনগুলো ছোট মনে হয়। আপনি হয়তো এখনো স্বপ্নের বেতন পাচ্ছেন না, নিজের বাড়ি হয়নি বা কাঙ্ক্ষিত স্থানে পৌঁছাননি; কিন্তু তার মানে এই নয় যে আপনি ব্যর্থ। আপনি এখনো জার্নির মাঝখানে আছেন, আর জার্নির মাঝখানে দাঁড়িয়ে চূড়ান্ত ফলাফল বিচার করা যায় না।
এখন আমি অন্যের সঙ্গে নিজের অগ্রগতির তুলনা না করে, নিজের পুরোনো সংস্করণের সঙ্গে তুলনা করি। আগে যেটা পারতাম না, এখন পারি কিনা; আগে যা বুঝতাম না, এখন বুঝি কিনা; যে পরিস্থিতিতে ভেঙে পড়তাম, এখন সেখানে শান্ত থাকতে পারি কিনা। এই চিন্তা আমাকে মানসিক শান্তি দেয়। বুঝতে পারি, আমার জীবন থেমে নেই।
সবার জীবনের টাইমলাইন এক হয় না। কেউ ২৫ বছর বয়সে সফল হয়, কেউ ৩৫ বা ৪৫-এ। কারও সুযোগ আগে আসে, কারও পরে। তাই সময় এখনো আসেনি বলে ধরে নেবেন না যে তা কখনোই আসবে না। হয়তো আপনার গল্পটা একটু ধীরে লেখা হচ্ছে, তবে ধীরে লেখা গল্পও সুন্দর হতে পারে।
আজ যদি মনে হয় আপনি পিছিয়ে আছেন, পাঁচ বছর আগের নিজের কথা ভাবুন। তারপর নিজেকে প্রশ্ন করুন- “আমি কি আজও আগের সেই মানুষটাই আছি?” উত্তর যদি ‘না’ হয়, তবে বুঝে নেবেন- আপনি ইতিমধ্যেই এগিয়ে গিয়েছেন।
এমআরএম