বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে অপহরণ করে গুম ও খুনের ঘটনায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের যে কোনো শর্তে চাওয়া জামিন আবেদন নাকচ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
একই সঙ্গে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ও পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ঠিক করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
আসামিপক্ষের আইনজীবী তাবারক হোসেন ভূইয়া আদেশের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন।
আরও পড়ুন
ইলিয়াস আলী গুম: বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর কারাগারে
এ সংক্রান্ত বিষয়ে করা আবেদন শুনানি নিয়ে রোববার (২৩ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারিক প্যানেল জামিন আবেদন খারিজ করে আদেশ দেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানান চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। জামিনের পক্ষে শুনানি করেন সাইফের আইনজীবী তাবারক হোসেন ভূইয়া।
শুনানিতে আইনজীবী তাবারক হোসেন বলেন, ২০০৩ সালে বিমান বাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন সাইফুর রহমান। তিনি বাহিনীর চৌকস কর্মকর্তা। তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগ নেই। অনেক আসামি পালিয়ে গেলেও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ট্রাইব্যুনালে এসেছেন তিনি। তিনি বিদেশে ছিলেন। চাইলে বিদেশ থেকে না এলেও পারতেন।
এই আইনজীবী আরও বলেন, যে কোনো শর্তে জামিন দিয়ে মামলায় তদন্তের জন্য যখনই সাইফুর রহমানকে প্রয়োজন হবে, তখনই ট্রাইব্যুনালে হাজির করা এবং মামলায় সার্বিক সহায়তা করা হবে। তদন্তে বাধা সৃষ্টি হলে জামিন বাতিল করতে পারবেন আদালত। তাকে বিমান বাহিনীর হেফাজতে রেখে জামিনের সুযোগ দেওয়া হোক।
শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, সাইফের বিরুদ্ধে আমরা অনেক অভিযোগ পেয়েছি। আমাদের কাছে যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ রয়েছে। ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনা ছাড়াও বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে। অতএব তাকে গ্রেফতারি পরোয়ানা কারাগারে পাঠানোর নিবেদন করছি আমরা।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে জামিন আবেদন খারিজ করে সাইফকে গ্রেফতার দেখিয়ে (শ্যোন অ্যারেস্ট) দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এ সময় প্রসিকিউটর মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম, ব্যারিস্টার মহাম্মদ শাইখ মাহদী, তাসমিরুল ইসলাম, মঈনুল করিমসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন
ইলিয়াস আলী গুম: উইং কমান্ডার সাইফুরের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে পরোয়ানা
এর আগে ট্রাইব্যুনাল সাইফুরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রসিকিউশন জানান মামলা তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে।
২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে বিএনপির তৎকালীন সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালক আনসার গুম হন। সিলেট-২ আসন থেকে দুই বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস আলী। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এফএইচ/ইএ