পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে কংক্রিটের বোল্ডার দিয়ে মাথা থেঁতলে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় আরও দুই প্রত্যক্ষদর্শী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
তাদের একজন আদালতের সামনে ঘটনার দিন সোহাগকে দোকান থেকে বের করে মারধর এবং পরে মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা তুলে ধরেন। অন্য সাক্ষী মামলার আলামত জব্দের বিষয়ে আদালতকে জানান।
রোববার (২৩ আগস্ট) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১-এর বিচারক আয়েশা আক্তার মৌসুমীর আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের দুই সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। তারা হলেন- মামলার চার্জশিটের সাক্ষী ও নিহত সোহাগের দোকানের কর্মচারী আমির হোসেন এবং পাশের দোকানের কর্মচারী ও জব্দ তালিকার সাক্ষী মোহাম্মদ মিঠুন। এ নিয়ে মামলাটিতে এখন পর্যন্ত সাতজন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
আদালতে আমির হোসেন বলেন, ঘটনার সময় আসামিরা সোহাগ ও অন্যদের মারধর করতে করতে দোকান থেকে বের করে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটের দিকে নিয়ে যায়। সেখানে হকি স্টিক, লাঠি ও পাথর দিয়ে সোহাগকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে সোহাগ মারা যান বলে আদালতে জবানবন্দিতে জানান তিনি।
আমির আরও বলেন, সোহাগকে মারধরের পর আসামিদের কয়েকজন তার নিথর দেহের ওপর উঠে উল্লাস করেন। পরে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
আরও পড়ুন
লাল চাঁদকে মাথা থেঁতলে হত্যা: আদালতে যে বর্ণনা দিলেন ৩ প্রত্যক্ষদর্শী
অন্য সাক্ষী মোহাম্মদ মিঠুন আদালতে জানান, তিনি সোহাগের দোকানের পাশের একটি দোকানে কর্মরত ছিলেন। তার কর্মস্থল থেকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিসিটিভি ফুটেজ একটি পেনড্রাইভে সংগ্রহ করেন এবং এ সংক্রান্ত জব্দ তালিকায় তার সই নেন।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বাদীপক্ষের আইনজীবী জিয়াউল হক জাগো নিউজকে বলেন, মামলার সাক্ষী, বাদী ও নিহত সোহাগের দুই শিশুসন্তানকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে জিডির বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
মামলার পটভূমি
২০২৫ সালের ৯ জুলাই বিকেলে পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটের সামনে ভাঙারি ও পুরোনো তারের ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে কংক্রিটের বোল্ডার দিয়ে মাথা ও শরীরে আঘাত করে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।
মামলার অভিযোগ ও সাক্ষীদের আগের জবানবন্দি অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের আগে ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে সোহাগের গোডাউনে তালা দেওয়া নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে সোহাগের দোকানে গিয়ে তাকে মারধর করে সেখান থেকে বের করে মিটফোর্ড হাসপাতালের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ মামলায় ২১ আসামির বিরুদ্ধে বিচার চলছে। এর আগে আদালত তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। বর্তমানে মামলায় ১০ জন আসামি কারাগারে, আটজন পলাতক এবং তিনজন জামিনে রয়েছেন।
মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ আদালতের কার্যতালিকা থেকে জানা যাবে।
এমডিএএ/এমকেআর