নোয়াখালীর কবিরহাটের আলোচিত ‘রিকশাওয়ালার বাঁধ’ কেটে দিয়েছে প্রশাসন। এতে জেলা সদরসহ কয়েকটি উপজেলা জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে বলে ধারণা কর্মকর্তাদের।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে কবিরহাট উপজেলার ধানশালিক ইউনিয়নে আলগী খালে আলোচিত ওই বাঁধ কাটা হয়। এসময় হাজার হাজার গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন।
বাঁধ কাটা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহান। গেস্ট অব অনার ছিলেন নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।
আরও পড়ুন
নদীভাঙন রোধে বিন্না ঘাস ব্যবহারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বামনী ক্লোজার নির্মাণ অসম্পূর্ণ থাকায় বামনী নদী হয়ে আলগীর খাল ও নোয়াখালী খালে জোয়ার-ভাটার প্রভাব অব্যাহত ছিল। এতে উচ্চ জোয়ারের সময় লবণাক্ত পানি প্রবেশ ও ঘরবাড়ি-রাস্তাঘাট প্লাবিত হওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। এ পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কবিরহাটের চরমন্ডলিয়া এলাকায় রিকশাওয়ালার দোকান স্থানে আলগীর খালের ওপর মাটির আড়াআড়ি বাঁধ দেওয়া হয়। এতে জেলায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
‘রিকশাওয়ালার দোকান’ স্থানে বাঁধটি অবস্থিত বলে এটি ‘রিকশাওয়ালার বাঁধ’ নামেই পরিচিত। ২০২৪ সালে বাঁধটি কাটতে গেলে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ে প্রশাসন। এতে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে এবং একজনের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তত্তাবধানে সরকার ওই বাঁধের স্থানে সেতু ও বাঁধের মুখে ১৯ ভেন্ট রেগুলেটসহ নদীতে ক্লোজার বাঁধ নির্মাণ করা হয়।
ধানশালিক ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জিয়াউল হক জিয়া বলেন, ‘আলগীর খালে এ বাঁধ দিয়ে বিগত সরকারের ভূমিদস্যুরা আশপাশের হাজার হাজার একর খাসজমি জবরদখল করেছে। আমরা এর অবসান চাই। তদন্ত করে সব অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে প্রকৃত ভূমিহীনদের কাছে বিতরণের দাবি জানাই।’
নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম রেফাত জামিল জাগো নিউজকে বলেন, এ বাঁধ অপসারণের ফলে নোয়াখালীর সদর, কবিরহাট ও কোম্পানীগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা কমার পাশাপাশি জেলার সামগ্রিক নিষ্কাশন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে।
আরও পড়ুন
দখলদারদের অনুরোধে বাঁধ না কেটেই ফিরলেন এমপি-ডিসি
তিনি বলেন, ‘বামনী নদীতে ক্লোজার নির্মাণ ও বামনী ১৯ ভেন্ট রেগুলেটর চালু করা হয়েছে। একইসঙ্গে আলগীর খাল থেকে বামনী নদী পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার এবং জালিয়ার খালে ছয় কিলোমিটার পুনঃখননের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলার প্রায় ১৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকার প্রায় ৯ লাখ মানুষ উপকৃত হবে।’
অনুষ্ঠানে নোয়াখালী স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ডা. মো. শেখ ছাদেকের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য গোলাম হায়দার, কবিরহাট উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কামরুল হুদা চৌধুরী লিটন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নুরুল আলম শিকদার, নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম রেফাত জামিল, কবিরহাট পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু প্রমুখ।
ইকবাল হোসেন মজনু/এসআর/এএসএম