বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), সংসদ টেলিভিশনসহ সরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে শুধু সরকারি দলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের খবর প্রচার না করে আনুপাতিক হারে বিরোধীদলের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড প্রচারের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এ কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি টেলিভিশনগুলোতে শুধু সরকারি দলের সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের খবর প্রচার করা হবে না। আনুপাতিক হারে সংসদের বিরোধীদলের সদস্যদের পাশাপাশি সংসদের বাইরে থাকা বিরোধীদলগুলোর খবরও প্রচার করতে হবে।
তিনি বলেন, অন্তত উনাদের কথা, যেগুলো বলছেন সরকারের বিরুদ্ধে হোক, পক্ষে হোক, জনগণের পক্ষে যে কথাগুলো, সেগুলো তুলে ধরতে হবে। এটাই হচ্ছে গণতন্ত্র।
আরও পড়ুন
১১ মাসে বিটিভির আয় ৮ কোটি, ব্যয় ২৫৪ কোটি টাকা
সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানিয়ে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের জন্য মঙ্গলবার থেকেই সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য গণমাধ্যম যা তুলে ধরতে চায়, তা প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার স্বাধীনতা সবার আছে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, যে স্বাধীনতাটা এখন আছে, অতীতের চেয়ে সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা এখন আমরা গণমাধ্যমে দেখছি।
এসময় সরকারের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডও গণমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমে সরকারের ইতিবাচক কার্যক্রম তুলে ধরা হলে সরকার আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা পাবে।
তিনি বলেন, আপনারা যখন পজিটিভ নিউজ করবেন, আমরা কিন্তু এনকারেজড হবো, সরকার এনকারেজড হবে। আমরাও তো মানুষ। আমাদের যখন পজিটিভ নিউজগুলো তুলে ধরবেন, তখন আমরা আরও ভালো কাজ, আরও ইমপ্রুভ করার অনুপ্রেরণা পাবো।
তবে সরকারের সমালোচনার অধিকার গণমাধ্যমের রয়েছে বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। একই সঙ্গে সরকার ও রাষ্ট্রের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে উল্লেখ করে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্রের ক্ষতি হয় বা রাষ্ট্রদ্রোহী কোনো সংবাদ কিংবা কোনো কিছু প্রচার করা ঠিক নয়।
একই সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান/ছবি: জাগো নিউজ
একই সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, গত ছয় মাসে সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে নির্দিষ্ট কোনো সংবাদ প্রকাশের নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকেও তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, কাউকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে না এবং কারও মুখ বন্ধ করে দেওয়া হবে না।
সাংবাদিকদের সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সরকার কোনো নির্দেশনা দিতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনারা যখনই নিউজ করবেন, অবশ্যই আপনাদের নিউজ আপনারা করবেন। আমরা আপনাদের নিউজ ডিকটেট বা কমেন্ট করার পজিশনে নেই।
আরও পড়ুন
বিটিভির নতুন মহাপরিচালক কাজী জেসিন
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, গণমাধ্যম গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। সরকারের সমালোচনা বস্তুনিষ্ঠভাবে করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সময় পার করছে। দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির পাশাপাশি বৈশ্বিক বাস্তবতাও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে সরকারকে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক কাঠামো নিয়েই সরকারকে কাজ করতে হচ্ছে, যা এক দিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
সরকারের গণমাধ্যমবান্ধব মনোভাবের উদাহরণ দিতে গিয়ে আন্দালিভ রহমান বলেন, বাংলাদেশ টেলিভিশনের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনায় তার ও প্রতিমন্ত্রীর প্রথম অনুরোধ ছিল, তাদের ছবি যেন যতটা সম্ভব কম দেখানো হয়। দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যবস্থার কারণে সেটিও পরিবর্তন করতে সময় লাগছে বলে জানান তিনি।
এমএএস/এমএমকে