রংপুরে সপ্তাহের ব্যবধানে কমেছে পোলট্রি মুরগি ও ডিমের দাম। একইসঙ্গে দাম কমেছে কাঁচামরিচসহ আদা, রসুন ও কিছু সবজির। অপরিবর্তিত রয়েছে চাল-ডাল ও মাছ-মাংসের দাম।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। যা গত সপ্তাহে ছিল ১০০-১২০ টাকা। তবে গত দু\'দিন আগেও ৬০-৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে কাঁচামরিচ।
দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে মুলাটোল আমতলা বাজারের সবজি বিক্রেতা ভুট্টু মিয়া বলেন, আজ সরবরাহ কমেছে। এ কারণে দাম বেড়েছে। গত দু\'দিন ৬০ থেকে ৭০ টাকা বিক্রি হলেও আজ ৮০-১০০ টাকা করে কেজি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পেঁয়াজ গত সপ্তাহের মতোই ৪৫-৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে, খুচরা বাজারে পোলট্রি মুরগির লাল ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৪৬-৪৮ টাকা। যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা। তবে ছোট সাইজের ডিম ৪৪-৪৫ টাকাতেও বিক্রি হতে দেখা গেছে।
সবজি বাজার ঘুরে দেখা যায়, টমেটো ও গাজর গত সপ্তাহের মতোই ১২০-১৪০ টাকা, কাঁকরোল ৬০-৭০ থেকে কমে ৪০-৫০ টাকা, ঝিংগা আগের মতো ৬০-৭০, মুলা ৫০-৬০ থেকে কমে ৪০-৫০ টাকা, চালকুমড়া (আকারভেদে) গত সপ্তাহের মতোই ৪০-৫০, কাঁচকলার হালি ২০-২৫, সজনে ডাঁটা ১৮০-২০০, দুধকুষি ৪০-৫০ থেকে কমে ৩৫-৪০ টাকা, শসা ৫০-৬০ থেকে কমে ৪০-৫০ টাকা, লেবুর হালি আগের মতো ১০-১৫ টাকা, চিকন বেগুন আগের মতো ৫০-৬০, গোল বেগুন ৭০-৮০, পটল ৪০-৫০, ঢেঁড়শ ৪০-৫০, পেঁপে ২৫-৩০, বাজারে নতুন আসা শিম ১৮০-২০০ থেকে কমে ১৫০-১৬০ টাকা, বরবটি ৭০-৮০ থেকে কমে ৫০-৬০ টাকা, করলা ৬০-৭০ থেকে কমে ৫০-৬০ টাকা, লাউ (আকারভেদে) অপরিবর্তিত ৪০-৫০ টাকা, কচুরলতি ৫০-৬০, কচুরমুখী ৪০-৫০ থেকে কমে ৩৫-৪০ টাকা, প্রতিকেজি ধনেপাতা ৮০-১০০ থেকে বেড়ে ১০০-১২০ টাকা, রকমভেদে শাকের আঁটি ১০ থেকে ৩০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৫০-৬০ থেকে কমে ৪০-৫০ টাকা, শুকনো মরিচ আগের মতোই ৪৫০-৫০০, কার্ডিনাল আলু গত সপ্তাহের মতোই ২২-২৫, সাদা আলু ৩০-৩৫ থেকে বেড়ে ৩৫-৪০ টাকা, বগুড়ার লাল পাকড়ি আলু ৩৫-৪০, শিল আলু ৪৫-৫০ এবং ঝাউ আলু ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া দেশি আদা গত সপ্তাহের মতোই ২২০-২৪০ টাকা, আমদানি করা আদা ১৬০-১৮০ থেকে কমে ১৪০-১৬০ টাকা, দেশি রসুন আগের মতো ১০০-১২০ এবং ভারতীয় রসুন ১৮০-২০০ থেকে কমে ১৬০-১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে, মুরগির বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগি ১৮০-১৯০ টাকা থেকে কমে ১৭০-১৮০, পাকিস্তানি সোনালি মুরগি গত সপ্তাহের মতোই ৩১০-৩২০ টাকা, পাকিস্তানি হাইব্রিড জাতের মুরগি ২৮০-২৯০ থেকে কমে ২৭০-২৮০ টাকা, পাকিস্তানি লেয়ার গত সপ্তাহের মতোই ৩৩০-৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৫০-৫৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া বাজারে গরুর মাংস ৭২০-৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১০০০ থেকে ১১০০ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে।
মুলাটোল বাজারের মুরগি বিক্রেতা আল আমিন বলেন, এখন মাসের শেষ সপ্তাহ। মুরগির চাহিদা কম। এ কারণে দাম কমেছে। সাধারণত মাসের প্রথম সপ্তাহে মুরগির চাহিদা বেড়ে যায়। তখন চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকলে দাম বাড়ে।
এদিকে, খুচরা বাজারে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০০-২০৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ২০০-২২০, মসুর ডাল (চিকন) গত সপ্তাহের মতোই ১৬০-১৮০, মাঝারি ১০০-১১০, মুগডাল ১৫০-১৬০ থেকে বেড়ে ১৬০-১৭০ টাকা, বুটের ডাল ১১০-১২০, খোলা চিনি ১০৫-১১০ থেকে বেড়ে ১১০-১১৫ টাকা, ছোলাবুট ৯০-১০০, প্যাকেট আটা ৫৫-৬০, খোলা আটা ৪০-৪৫ এবং প্যাকেট ময়দা ৬৫-৭০ থেকে বেড়ে ৭০-৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
চালের বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের মতোই স্বর্ণা (মোটা) ৪৮-৫০ টাকা, স্বর্ণা (চিকন) ৫৫-৫৮ টাকা, বিআর২৮- ৬০-৬৫ টাকা, বিআর২৯- ৫৫-৬০ টাকা, জিরাশাইল ৫০-৬০, মিনিকেট ৭৫-৮০ এবং নাজিরশাইল ৮৫-৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, আকারভেদে রুইমাছ ৩২০-৩৮০ টাকা, টেংরা ৪০০-৫৬০, পাবদা ৩৫০-৪০০, মৃগেল ২২০-২৫০, কারপু ২৫০-২৬০, পাঙাস ১৫০-২৫০, তেলাপিয়া ২০০-২৫০, কাতল ৩০০-৫০০, বাটা ১৮০-২৪০, শিং ৩০০-৪০০, সিলভার কার্প ১৮০-২৬০ এবং গছিমাছ ৮০০-১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
জিতু কবীর/কেজে/এএসএম