ইনস্টাগ্রামে নিয়মিত পোস্ট করেও আশানুরূপ ভিউ বা রিচ পাচ্ছেন না? কনটেন্ট ভালো হওয়ার পরও অনেক সময় কম মানুষের কাছে পৌঁছানোর কারণ হতে পারে পোস্ট করার সময়। ব্যবহারকারীরা দিনের কোন সময়ে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকেন, তার ওপরও একটি পোস্টের প্রাথমিক রিচ অনেকটাই নির্ভর করতে পারে।
বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যানালিটিক্সের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দিনের কয়েকটি সময়কে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করার জন্য তুলনামূলক কার্যকর বলে ধরা হয়। বিশেষ করে সকাল, দুপুর এবং সন্ধ্যার নির্দিষ্ট সময়ে পোস্ট করলে বেশি মানুষের কাছে কনটেন্ট পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়।
কোন সময়ে পোস্ট করলে রিচ বেশি হতে পারে?
সাধারণ পোস্টের ক্ষেত্রে সকাল ৭টা থেকে ৯টার সময়টিকে গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়। দিনের শুরুতে অনেকেই ঘুম থেকে উঠে কিংবা কাজ শুরু করার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢোকেন। ফলে এই সময় পোস্ট করলে দ্রুত কিছু এনগেজমেন্ট পাওয়ার সুযোগ থাকে।
এরপর দুপুর ১১টা থেকে ১টার মধ্যেও পোস্ট করা যেতে পারে। দুপুরের বিরতির সময় অনেক ব্যবহারকারী ফোনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখেন। ফলে এই সময়েও কনটেন্টের প্রাথমিক দর্শক পাওয়া সম্ভব।
আরও পড়ুন
কেন ১০ বছর পর ইনস্টাগ্রামের ওয়ার্ডমার্ক বদলে গেল?
সন্ধ্যা থেকে রাতের সময়টিও ইনস্টাগ্রামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে ব্যবহারকারীদের অনলাইন উপস্থিতি বাড়তে পারে। অফিস, স্কুল বা অন্যান্য ব্যস্ততা শেষ করে অনেকেই এই সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় কাটান।
তবে এগুলোকে কোনোভাবেই সবার জন্য নির্দিষ্ট ‘সেরা সময়’ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। কারণ প্রতিটি অ্যাকাউন্টের অনুসারীদের বয়স, অবস্থান, পেশা ও অনলাইন থাকার অভ্যাস আলাদা।
সপ্তাহের কোন দিন ভালো?
শুধু দিনের সময় নয়, সপ্তাহের দিনও পোস্টের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে। বিভিন্ন বিশ্লেষণে মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবারকে তুলনামূলক ভালো দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কর্মদিবসের মাঝামাঝি সময়ে ব্যবহারকারীদের সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়তা অনেক ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়।
অন্যদিকে সোমবার ও শুক্রবারের পাশাপাশি সপ্তাহান্তের শনিবার ও রবিবারে পোস্টের ফল কিছু অ্যাকাউন্টে তুলনামূলক কম হতে পারে। তবে এটিও সর্বজনীন নিয়ম নয়। কোনো নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টের দর্শক যদি সপ্তাহান্তে বেশি সক্রিয় থাকেন, তাহলে সেই দিনগুলোতেই বরং ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।
সব ধরনের কনটেন্টের সময় কি এক?
একই সময় সব ধরনের পোস্টের জন্য কার্যকর নাও হতে পারে। কনটেন্টের ধরন এবং দর্শকের আচরণের ওপর পোস্টের সময় নির্ভর করে। যেমন সকালে সংবাদ, মিডিয়া বা মার্কেটিং-সংক্রান্ত কনটেন্ট ভালো সাড়া পেতে পারে। আবার বিকেলের দিকে নির্মাণ, অর্থসংস্থান বা আতিথেয়তার মতো নির্দিষ্ট খাতের কনটেন্টের দর্শক বেশি সক্রিয় থাকতে পারেন। তাই শুধু একটি ‘সেরা সময়’ অনুসরণ না করে নিজের কনটেন্টের ধরন অনুযায়ী পোস্টিংয়ের সময় পরীক্ষা করে দেখা বেশি কার্যকর।
রিলের ক্ষেত্রে সময়টা একটু আলাদা
ইনস্টাগ্রাম রিলের জনপ্রিয়তা আলাদা হওয়ায় এর পোস্টিং টাইম নিয়েও নানা বিশ্লেষণ রয়েছে। কিছু তথ্য অনুযায়ী, ভোর ৫টার কাছাকাছি সময়েও রিল ভালো পারফর্ম করতে পারে। পাশাপাশি সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টার সময়কেও রিল প্রকাশের জন্য কার্যকর সময় হিসেবে ধরা হয়।
তবে ভোরে পোস্ট করলেই যে সব রিল ভাইরাল হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। রিলের বিষয়, প্রথম কয়েক সেকেন্ডের আকর্ষণ, ভিডিওর দৈর্ঘ্য, ক্যাপশন, অডিও এবং দর্শকের প্রতিক্রিয়া সবকিছু মিলেই এর পারফরম্যান্স নির্ধারিত হয়।
নতুন অ্যাকাউন্ট হলে কী করবেন?
নতুন ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত ডেটা না থাকায় নিজের দর্শকরা কখন সবচেয়ে বেশি সক্রিয়, তা বোঝা কঠিন। এমন পরিস্থিতিতে সকাল ৭টা থেকে ৯টা, দুপুর ১১টা থেকে ১টা এবং সন্ধ্যা ৫টা থেকে রাত ৯টার মতো ব্যস্ত সময়গুলোতে পোস্ট করে পরীক্ষা করা যেতে পারে।
আরও পড়ুন
ছবিতে প্রথমে হাতি নাকি গ্রাম দেখলেন?
একই ধরনের কনটেন্ট বিভিন্ন সময়ে পোস্ট করে ফলাফল তুলনা করুন। কোন সময়ে বেশি ভিউ, লাইক, কমেন্ট, শেয়ার বা সেভ পাওয়া যাচ্ছে, তা লক্ষ্য করুন। কয়েক সপ্তাহের তথ্য হাতে এলে নিজের অ্যাকাউন্টের জন্য কার্যকর সময়ের একটি ধারণা তৈরি হবে।
ইনস্টাগ্রামে শুধু সময়ই সব নয়
পোস্ট করার সময় গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটিই রিচ বাড়ানোর একমাত্র চাবিকাঠি নয়। ভালো কনটেন্ট, দর্শকের আগ্রহ, নিয়মিত পোস্ট করা, আকর্ষণীয় থাম্বনেইল, উপযুক্ত ক্যাপশন এবং ভিডিওর শুরুতেই দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তাই শুধু ‘পিক আওয়ার’-এর ওপর নির্ভর না করে নিজের অডিয়েন্স ইনসাইট বিশ্লেষণ করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। শুরুতে প্রচলিত ব্যস্ত সময়গুলো অনুসরণ করে পোস্ট করা যেতে পারে। পরে নিজের অ্যাকাউন্টের ডেটা হাতে এলে সেই অনুযায়ী সময় পরিবর্তন করুন।
কারণ ইনস্টাগ্রামে সবার জন্য একটিমাত্র জাদুকরী পোস্টিং টাইম নেই। আপনার দর্শক কখন অনলাইনে থাকেন, কী ধরনের কনটেন্ট দেখতে পছন্দ করেন এবং কোন সময়ে সবচেয়ে বেশি প্রতিক্রিয়া জানান এই তিনটি বিষয় বুঝতে পারলেই রিচ বাড়ানোর কৌশল অনেক বেশি কার্যকর হবে।
কেএসকে