<p><strong>সন্দীপ সরকার, কলকাতা: </strong>তিনি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (BCCI) আম্পায়ার। ঘরোয়া ক্রিকেটের সেরা টুর্নামেন্ট <a title="রঞ্জি ট্রফি" href="https://bengali.abplive.com/topic/ranji-trophy" data-type="interlinkingkeywords">রঞ্জি ট্রফি</a> থেকে শুরু করে বোর্ডের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ম্যাচ পরিচালনা করেন। আবার তিনিই সিএবি অনুমোদিত হুগলি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সচিব! </p>
<p>স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগে বিদ্ধ হলেন বোর্ডের আম্পায়ার তথা হুগলি ডিএসএ-র সচিব ইন্দ্রনীল চক্রবর্তী। তাঁর বিরুদ্ধে চিঠি গেল সরাসরি বোর্ডের ওম্বাডসম্যান বিচারপতি অরুণ মিশ্রর কাছে (যে চিঠির প্রতিলিপি রয়েছে এবিপি লাইভ বাংলার হাতে)। অভিযোগ পেয়ে নড়েচড়ে বসেছে বোর্ড। ৪ সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে অভিযুক্ত ইন্দ্রনীলকে। ২৯ সেপ্টেম্বর এ নিয়ে ভার্চুয়ালি পরবর্তী শুনানি করে নির্দেশ দেবেন বোর্ডের ওম্বাডসম্যান। এ নিয়ে তিনি অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত - দুই পক্ষকেই চিঠি পাঠিয়েছেন (যার প্রতিলিপি রয়েছে এবিপি লাইভ বাংলার হাতে)।</p>
<p>ঠিক কী অভিযোগ ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে?</p>
<p>হুগলির শ্রীরামপুর নিবাসী জনৈক পুলক মুখোপাধ্যায় বোর্ডের ওম্বাডসম্যান বিচারপতি অরুণ মিশ্রকে চিঠি পাঠিয়ে অভিযোগ করেছেন, বোর্ডের আম্পায়ার তথা ম্যাচ অফিসিয়াল ইন্দ্রনীল চক্রবর্তী সিএবি অনুমোদিত হুগলি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সচিবও। হুগলি জেলা ক্রীড়া সংস্থা ক্রিকেটার নির্বাচন, সিএবি-র সভায় প্রতিনিধিত্ব করা, ইডেনে আয়োজিত ম্যাচের টিকিট পাওয়া থেকে শুরু করে সিএবি-র অনুদান - সবই পেয়ে থাকে। অভিযোগ, বোর্ডের আম্পায়ার হওয়ার পাশাপাশি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সচিব হয়ে লোঢা কমিটির নিয়ম ভেঙে স্বার্থের সংঘাতে জড়িয়েছেন ইন্দ্রনীল।</p>
<p>ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের গঠনতন্ত্রের ৩৮ (৪) নিয়ম তুলে ধরা হয়েছে অভিযোগপত্রে। যেখানে বলা হয়েছে, এক ব্যাক্তি কখনওই বর্তমান ক্রিকেটার, নির্বাচক/ক্রিকেট কমিটির সদস্য, টিম অফিশিয়াল, ধারাভাষ্যকার, ম্যাচ অফিশিয়াল, ক্রিকেট প্রশাসক/পদাধিকারী, ইলেক্টোরাল অফিসার, ওম্বাডসম্যান ও এথিক্স অফিসার, অডিটর, কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তা, স্যান্ডিং কমিটির সদস্য, সিইও এবং ম্যানেজার, কোনও সদস্য সংস্থার পদাধিকারী, সার্ভিস প্রোভাইডার (লিগাল ও ফিনান্সিয়াল) ও সম্প্রচারকারী সংস্থা ও নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ - এই পদগুলির মধ্যে একসঙ্গে যে কোনও দুটিতে থাকতে পারবেন না। অভিযোগ, সেই নিয়ম ভেঙে একই সঙ্গে ম্যাচ অফিশিয়াল ও সদস্য সংস্থার পদাধিকারী ইন্দ্রনীল। অবিলম্বে অভিযুক্তকে বোর্ডের আম্পায়ার পদ থেকে সরাতে ও বোর্ড থেকে পাওয়া সমস্ত টাকা সুদ-সহ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিতে অনুরোধ করা হয়েছে ওম্বাডসম্যানকে। সেই সঙ্গে ইন্দ্রনীলের হুগলি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সচিব পদ থেকে অপসারণ ও সমস্ত ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ড থেকে নির্বাসিত করার দাবিও তোলা হয়েছে।</p>
<p>[yt]https://www.youtube.com/watch?v=PKwLsAu-z10[/yt]</p>
<p>এই অভিযোগ নিয়ে যোগাযোগ করা হয়েছিল ইন্দ্রনীলের সঙ্গে। এবিপি লাইভ বাংলাকে তিনি বললেন, 'বোর্ডের ওম্বাডসম্যানের চিঠি পেয়েছি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জবাব দেব।' যোগ করলেন, 'আমি নিজে ক্রিকেটার ছিলাম। পরে আম্পায়ারিং শুরু করি। দীর্ঘদিন ধরে আম্পায়ারিং করছি। অনেক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলিয়েছি। কেন এই অভিযোগ উঠছে আমার কাছে পরিষ্কার নয়। হুগলি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সচিব হিসাবে আমি কিন্তু সিএবির বার্ষিক সাধারণ সভা বা জরুরি সভা - কোনওটাতেই যাইনি। সিএবি-র গত এজিএমে হুগলি জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে প্রতিনিধি হিসাবে গিয়েছিলেন প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার। আমি সিএবি-র কোনও কমিটিতেও নেই। যা জানানোর ওম্বাডসম্যানকে জানাব। তিনি যা নির্দেশ দেবেন মেনে চলব।'</p>