রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌর শহরের নির্জন সড়কে পরকীয়া প্রেমের জেরে আবু বক্কর সিদ্দিক (৩৫) নামে এক যুবককে গলাকেটে ও ঘাড়ে, মুখে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুইজনকে রংপুর আদালতে পাঠানো হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রংপুর পিবিআই পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) নুরে আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেফতার সাজুল মিয়া সাজু (২৮) লালমনিরহাট সদরের কালমাটি মিলনবাজার এলাকার নুর ইসলামের ছেলে এবং হাফিজুল ইসলাম (২০) একই উপজেলার মিলনবাজার আশিরভিটার আমিনুল ইসলামের ছেলে।
নুরে আলম বলেন, সাজু ও হাফিজুল দুই বন্ধু। রোববার রাতে কাউনিয়া উপজেলার চরচতুরা গ্রামের শেষ সীমান্তে হারাগাছ ইউনিয়নের পল্লীমারী হকের বাজারের যুবক আবু বক্কর সিদ্দিক হত্যার শিকার হন। রাতেই ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ ও চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করে হারাগাছ থানা পুলিশ। খবর পেয়ে রাতেই পিবিআই ক্রাইমসিন এলাকায় পৌঁছে হত্যার রহস্য উৎঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ শুরু করে। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ওই রাতেই হত্যার ঘটনায় জড়িত সাজুল মিয়া সাজুকে আটক করে পিবিআই। জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যার ঘটনার পরদিন সাজুর বন্ধু হাফিজুলকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা দুইজনেই সিদ্দিককে গলা কেটে ও ঘাড়ে, মুখে কুপিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
এছাড়া ওই রাতেই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সাজুর স্ত্রী মুন্নি বেগমকেও আটক করা হয়। সোমবার মুন্নিকে পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করে হারাগাছ থানা পুলিশ।
উপপরিদর্শক নুরে আলম বলেন, পরকীয়া প্রেমের জেরে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। সাজুর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া প্রেম ছিল সিদ্দিকের। সাজুর বাধা উপেক্ষা করে তার স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন সিদ্দিক। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সাজু রোববার রাতে সিদ্দিককে মিলনবাজারে আসতে বলেন। সিদ্দিক সেখানে আসার পর তাকে চরচতুরা গ্রামের শেষ সীমান্তে নির্জন সড়কে নিয়ে গিয়ে কথাবার্তার এক পর্যায়ে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে গলা কেটে ও ঘাড়ে, মুখে কুপিয়ে হত্যা করেন সাজু ও তার বন্ধু হাফিজুর। সিদ্দিকের কপালে কোপানোর সময় চাইনিজ কুড়ালের আঘাতে সাজুর বাম পায়ে কেটে রক্তাক্ত জখম হয়। সিদ্দিকের মৃত্যু নিশ্চিতের পর সাজু ও হাফিজুর ঘটনাস্থলের পাশের একটি পুকুরে রক্তমাখা চাইনিজ কুড়ালটি পরিষ্কার করে বালুর নিচে পুঁতে রাখেন। এরপর সাজুর বাড়িতে গিয়ে ঘরে বসে সাজু ও হাফিজুর ইয়াবা সেবন করেন। ওই রাতে পুকুরের পাড়ে রক্তের চিহ্ন দেখে সেখান থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাইনিজ কুড়ালটি উদ্ধার করে হারাগাছ থানা পুলিশ।
এ ব্যাপারে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হারাগাছ থানায় রোববার রাতেই নিহতের বড় ভাই তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় পিবিআইকে। ঘটনার সঙ্গে সম্পর্ক না থাকায় সাজুর স্ত্রীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং সাজু ও হাফিজুরকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
পিবিআই রংপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ব্যক্তিগত ইস্যুর জেরে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে। জিজ্ঞাসাবাদে সাজু ও হাফিজুল ইসলাম দুইজনেই সিদ্দিককে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। আটক দুইজনকেই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। আর ব্যক্তিগত ইস্যুর বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
জিতু কবীর/এফএ/এএসএম