সকাল থেকে কখনো গুঁড়িগুঁড়ি, আবার কখনো মুষলধারে বৃষ্টি। এর মধ্যেও পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সরকারি ছুটির দিনে রাজধানীর জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্র জাতীয় চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীর ভিড় দেখা গেছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহনে করে দর্শনার্থীরা চিড়িয়াখানায় আসতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে বৃষ্টির প্রকোপ কিছুটা কমে, তবে আকাশ ছিল। এমন অবস্থায় চিড়িয়াখানার টিকিট কাউন্টার ও প্রবেশপথে তৈরি হয় দীর্ঘ সারি।
বেলা ১১ টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, রিকশা, বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল যোগে দর্শনার্থীরা আসছেন। কেউ কেউ বাস না পেয়ে সনি সিনেমা হলের সামনে থেকে হেঁটেই আসেন চিড়িয়াখানায়।
চিড়িয়াখানার বাইরে দর্শনার্থীদের ঘিরে বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন হকাররা। হাঁকডাক করে পানি, বাদাম, খেলনা, বেলুনসহ নানা সামগ্রী বিক্রি করতে দেখা যায় তাদের। হকারদের পাশ কাটিয়ে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করেন দর্শনার্থীরা।
গেটের সামনে বাদাম বিক্রেতা মানসুরা জাগো নিউজকে বলেন, ‘সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের চাপ আছে। বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে। সকাল থেকে ৪০০-৫০০ টাকার বাদাম বিক্রি করে ফেলেছি।’
আরও পড়ুন
চিড়িয়াখানায় পেখম মেলে দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করলো ময়ূর
বেলুন বিক্রেতা মুশফিকাও একই কথা জানান। তিনি বলেন, ‘শুক্রবারের সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও এমন ভিড় হয়। তবে বিকেলের দিকে দর্শনার্থীর চাপ আরও বাড়তে পারে।’
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীর ভিড় বাড়তে থাকে/ছবি: জাগো নিউজ
চিড়িয়াখানার ভেতরে হরিণ, বাঘ, সিংহ, বানর, হাতি ও জিরাফসহ বিভিন্ন প্রাণীর খাঁচার সামনে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায়। শিশুদের উপস্থিতিই দেখা গেছে সবচেয়ে বেশি। সন্তানদের নিয়ে অভিভাবকদের দীর্ঘক্ষণ খাঁচার সামনে দাঁড়িয়ে প্রাণীদের দেখার দৃশ্য চোখে পড়ে।
আরও পড়ুন
নামেই চিড়িয়াখানা, খাঁচা আছে প্রাণী নেই
বৃষ্টির কারণে কেউ কেউ চিড়িয়াখানার বিভিন্ন বসার স্থান ও ছাউনির নিচে আশ্রয় নেন। পাশাপাশি শিশু পার্কসহ অন্যান্য বিনোদনকেন্দ্রেও ছিল দর্শনার্থীদের উপস্থিতি।
গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে পরিবারের সাত সদস্যকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় এসেছেন দীপক বড়াল। দীপক জাগো নিউজকে বলেন, ‘সকালে গাড়িভাড়া করে রওয়ানা দিয়েছি। সারাদিন ঘুরে বিকেলে বাসায় ফিরে যাবো। বৃষ্টি থাকলেও পরিবারের সবাই মিলে ঘুরতে এসে ভালো লাগছে।’
চিড়িয়াখানার বাইরে কথা হয় মিজান আহমেদের সঙ্গে। স্ত্রী ও ৯ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে তিনি। মিজান বলেন, ‘সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চিড়িয়াখানায় ঘুরেছি। তবে এখনো আগের সেসব প্রাণীই রয়েছে। দর্শনার্থীদের আকর্ষণ বাড়াতে চিড়িয়াখানায় আরও নতুন নতুন প্রাণী আনা দরকার।’
এসএম/ইএ