জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য চেতনাকে ছড়িয়ে দিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) প্রতিষ্ঠিত হয় নজরুল চর্চা কেন্দ্র। তবে কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠার ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও তাদের দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম এখনো চোখে পড়েনি। প্রয়োজনীয় সামগ্রীর অভাব, প্রশিক্ষণ এবং সেমিনারসহ নিয়মিত কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় কেন্দ্রটির উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ‘নজরুল চর্চা কেন্দ্রটি’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব কেন্দ্রটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দেন। নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও জীবনদর্শন নিয়ে নিয়মিত চর্চা, গবেষণা ও আলোচনা করাসহ তার মানবতাবাদ, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তাধারা নতুন প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দেওয়াই কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান অহনা বলেন, শিক্ষার্থীদের জ্ঞান বিকাশের জন্য নজরুল চর্চা কেন্দ্রটির গুরুত্ব অনেক বেশি। এখানে নিয়মিত আলোচনা সভা, সেমিনার ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হলে শিক্ষার্থীরা কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত, দর্শন ও চিন্তাধারা সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানার সুযোগ পাবে।
তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে নজরুলের রচনা ও তার অসাম্প্রদায়িক, মানবতাবাদী ও সাম্যের চিন্তাধারা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তার সাহিত্য তরুণদের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সচেতন হতে, মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করতে এবং সমাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে অনুপ্রাণিত করবে। শুধু নামেই সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিত কার্যক্রমের মাধ্যমে নজরুল চর্চা কেন্দ্রকে সক্রিয় করা প্রয়োজন।
মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী ইকরামুল ইসলাম বলেন, নজরুল বাংলাদেশের জাতীয় কবি হওয়া সত্ত্বেও তার জীবনী নিয়ে শিক্ষামূলক কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম আমাদের চোখে পড়ে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে তার জীবন, সাহিত্য এবং সংগ্রামকে বিকশিত করার জন্য যে কেন্দ্রটি গঠিত হয়েছিল তার কার্যক্রম শুরু করা গেলে সেটি অবশ্যই দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণকর হবে।
কেন্দ্রটির পরিচালক অধ্যাপক শামীমা হামিদ বলেন, আগের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নজরুল চর্চা কেন্দ্রটি গঠন করেছিল। বলতে গেলে অনেকটা জোর করেই আমাকে এর পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে কেন্দ্রটির কার্যক্রমে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি করতে পারিনি। আমাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে খুবই বিব্রত বোধ করি।
কেন্দ্রটির প্রতিষ্ঠাতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, শুধু বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নয়, সামগ্রিক দিক বিবেচনা করলে নজরুলচর্চার গুরুত্ব অনেক বেশি। নজরুলের মানবতার শিক্ষা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তাভাবনা আরও বেশি প্রচার করা উচিত।
এবিষয়ে পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের পরিকল্পনা অনেক ছিল। আমরা চেয়েছিলাম, এটি সত্যিকার অর্থে একটি গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠুক। এখানে নজরুলের রচনা নিয়ে অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সেমিনার, সিম্পোজিয়াম আয়োজন, গবেষণার সুযোগ তৈরি করা এবং রিসার্চ ফেলো রাখার মতো নানা পরিকল্পনা ছিল।
আরও পড়ুন
রাবিতে দুই বিভাগের সংঘর্ষের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি
বর্তমানে কার্যক্রম নিয়ে তিনি বলেন, এখন এটির সঙ্গে আমার তেমন কোনো যোগাযোগ নেই। তাই কার্যক্রম চলছে কিনা সে বিষয়ে আমি জানি না। এটির কাঠামো কেমন হবে বা কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়েও আমাদের চিন্তাভাবনা ছিল।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে ভাববেন। নিশ্চয়ই সবাই স্বীকার করবেন যে এ ধরনের একটি ইনস্টিটিউট বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রয়োজন আছে। বিশেষ করে নজরুলের চিন্তাভাবনা ও রচনা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম বলেন, নজরুল চর্চা কেন্দ্রটি শুধু নামমাত্র গঠন করা হয়েছে। এর কোনো অফিস নেই এবং এখন পর্যন্ত কার্যত কোনো কাজও করা হয়নি।
তিনি বলেন, এটিকে শিক্ষার্থীদের দাঁড় করাতে হবে। এটি আগে ছিল না, সম্পূর্ণ নতুন একটি কেন্দ্র। তাই এর জন্য অনুমোদন ও ইউজিসির (বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন) অনুমতি প্রয়োজন। অফিস স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও অন্যান্য সরঞ্জামও কিনতে হবে। আমরা সামনে এসব কার্যক্রম করবো।
মিরাজ হোসেন/এনএইচআর/এএসএম