সাভারের ‘চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার’ নামের একটি আশ্রমে এক অসহায় বৃদ্ধাকে পৌঁছে দিতে গিয়ে সাংবাদিক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে আটকে রেখে মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মিল্টন সমাদ্দার ও তার কর্মীদের বিরুদ্ধে।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে সরকারি তদারকির দাবিতে বুধবার (২৬ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হামলার অভিযোগকারী ঢাকা মেইলের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার ইলিয়াস হোসেন ও উজান টিভির কনটেন্ট ক্রিয়েটর নাহিদ হাসান। তারা ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন
মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে অজস্র অভিযোগ: হারুন
ভুক্তভোগীদের দাবি, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বাগেরহাটের শরণখোলা থেকে উদ্ধার করা এক অসহায় বৃদ্ধাকে নিয়ে তারা সাভারের ওই আশ্রমে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর আশ্রমের চেয়ারম্যান মিল্টন সমাদ্দার ও তার কর্মীরা তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। একপর্যায়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং আশ্রমের ভেতরে আটকে রেখে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
ইলিয়াস হোসেন ও নাহিদ হাসান জানান, হামলার ঘটনায় তাদের কাছে একটি অডিও রেকর্ড রয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি আশ্রমটির কার্যক্রমে সরকারি তদারকি এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায়। গত ২৩ আগস্ট সেখানে মাথায় গুরুতর ক্ষত ও পোকায় আক্রান্ত অবস্থায় এক বেওয়ারিশ বৃদ্ধাকে উদ্ধার করা হয়। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অনুদানের মাধ্যমে তাকে ঢাকায় মিল্টন সমাদ্দারের প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তাদের অভিযোগ, ওই বৃদ্ধাকে আশ্রমে নেওয়ার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে শুরু থেকেই বিনামূল্যে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়। এ সময় বৃদ্ধার জন্য মাসে ১৮ হাজার টাকা খরচ দাবি করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগীরা আরও দাবি করেন, বৃদ্ধাকে আশ্রমে পৌঁছে দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে কথা বলার একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর মিল্টন সমাদ্দার ও তার কর্মীরা তাদের ওপর হামলা করেন এবং কিছু সময়ের জন্য আশ্রমের ভেতরে আটকে রাখেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে মিল্টন সমাদ্দার ও আশ্রম কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।
এমআরএম