আলমারির এক কোণে পড়ে থাকা পুরোনো শাড়ির সঙ্গে অনেক সময় জড়িয়ে থাকে প্রিয় স্মৃতি। বিশেষ করে মায়ের শাড়ি হলে সেটি আর পাঁচটা পোশাকের মতো সহজে ফেলে দেওয়া যায় না।
শাড়িটি হয়তো পরার মতো অবস্থায় নেই, কিন্তু তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা আবেগটুকু থেকে যায়। তাই পুরোনো শাড়ি নষ্ট না করে সেটিকে নতুন পোশাকে রূপ দিতে পারেন। এতে একদিকে স্মৃতিও ধরে রাখা যাবে, অন্যদিকে পুরোনো কাপড় পাবে নতুন জীবন।
বর্তমানে পুরোনো শাড়ি নতুনভাবে ব্যবহার করে পোশাক তৈরির প্রবণতা বেশ জনপ্রিয়। শাড়ির কাপড়, নকশা ও মান অনুযায়ী তৈরি করা যায় নানা ধরনের আধুনিক পোশাক। সিল্ক, বেনারসি, জামদানি, চান্দেরি, জর্জেট, শিফন কিংবা সুতি-প্রতিটি শাড়িকেই একটু সৃজনশীলতায় রূপ দেওয়া সম্ভব নতুন ফ্যাশন স্টেটমেন্টে।
লেহঙ্গা বা স্কার্ট
পুরোনো সিল্ক, বেনারসি কিংবা জামদানি শাড়ি দিয়ে তৈরি করা যায় নজরকাড়া লেহঙ্গা। চাইলে একই কাপড় ব্যবহার করে ব্লাউজ বা ক্রপ টপও বানিয়ে নিতে পারেন। এতে তৈরি হবে সম্পূর্ণ একটি ম্যাচিং সেট। বিয়েবাড়ি, পার্টি কিংবা উৎসবের অনুষ্ঠানে এমন পোশাক বেশ আকর্ষণীয় হতে পারে। শাড়িতে যদি ভারী পাড় বা সুন্দর নকশা থাকে, তাহলে সেটি লেহঙ্গার নিচের অংশে ব্যবহার করলে পোশাকের সৌন্দর্য আরও বেড়ে যাবে। অপেক্ষাকৃত হালকা শাড়ি দিয়ে তৈরি করা যেতে পারে বড় ঘেরের স্কার্ট, যা টপ বা শার্টের সঙ্গেও পরা যাবে।
গাউন
পুরোনো সিল্ক, জর্জেট কিংবা প্রিন্টেড শাড়ি দিয়ে তৈরি করা যায় আধুনিক গাউন। বিশেষ করে ফুলেল নকশা, ডিজিটাল প্রিন্ট বা আকর্ষণীয় পাড় থাকা শাড়ি গাউনের জন্য বেশ ভালো। শাড়ির আঁচল বা পাড়ের নকশা গাউনের হাতা, কোমর কিংবা নেকলাইনে ব্যবহার করলে পোশাকটিতে পাওয়া যাবে আলাদা ডিজাইনার লুক।
আনারকলি
শিফন বা জর্জেটের পুরোনো শাড়ি দিয়ে তৈরি করা যায় ঘের দেওয়া সুন্দর আনারকলি। শাড়ির হালকা ও ঝরঝরে কাপড় আনারকলির জন্য বেশ মানানসই। নিজের মাপ অনুযায়ী তৈরি করলে পোশাকটি শরীরের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানিয়ে যাবে। পুরোনো শাড়ির পাড় ব্যবহার করে আনারকলির নিচের অংশে বর্ডার যোগ করলেও দেখতে ভালো লাগবে।
জমকালো ওড়না
পুরোনো বেনারসি কিংবা চান্দেরি সিল্ক শাড়ি থেকে তৈরি করতে পারেন সুন্দর একটি ওড়না। শাড়ির পাড় ও আঁচল ঠিক রেখে ওড়না তৈরি করলে সেটিতে থাকবে ঐতিহ্যবাহী সৌন্দর্য। সাধারণ কুর্তা, সালোয়ার কিংবা একরঙা পোশাকের সঙ্গে এমন ওড়না পরলেই সাজে উৎসবের আমেজ চলে আসবে। বিয়েবাড়ি বা বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্যও এটি হতে পারে দারুণ বিকল্প।
আরও পড়ুন
নতুন কর্মজীবনের পাশাপাশি ফ্যাশনেও তমার বাজিমাত
স্টাইলিশ কটি
সিল্ক কিংবা সুতি শাড়ি দিয়ে তৈরি করা যায় লম্বা, শর্ট কিংবা হাঁটু-ঝুলের ফ্যাশনেবল কটি। শাড়ির পাড় ও নকশা ব্যবহার করে জ্যাকেটের কলার, হাতা বা সামনের অংশ সাজানো যেতে পারে। কুর্তা, জিন্স, সাধারণ টপ কিংবা ড্রেসের সঙ্গে এমন কটি পরলে খুব সহজেই তৈরি হবে স্টাইলিশ ফিউশন লুক।
আরও পড়ুন
কী আছে আহমেদের নতুন ঘরে
পুরোনো শাড়িকে এভাবে নতুন পোশাকে রূপ দিলে স্মৃতিটুকুও যেমন থেকে যায়, তেমনই তৈরি হয় একেবারে নিজস্ব ডিজাইনের পোশাক। তাই আলমারিতে পড়ে থাকা প্রিয় শাড়িটি ফেলে না দিয়ে একটু সৃজনশীলতায় ফিরিয়ে আনুন নতুন রূপে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, ভোগ
এসএকেওয়াই