দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তাদের আরও কঠোর শাস্তির দাবিতে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় বিক্ষোভ করেছেন শত শত মানুষ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) তারা দেশটির পার্লামেন্ট ভবনের সামনে জড়ো হয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে পার্লামেন্টের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয় দাঙ্গা পুলিশ। এ সময় বিক্ষোভকারীরা লাল-সাদা জাতীয় পতাকার আদলে তৈরি কয়েক মিটার দীর্ঘ একটি পতাকা প্রদর্শন করেন। তারা একটি ব্যানারে লিখেন, দুর্নীতিবাজরা ধনী হয়, আর জনগণ কষ্ট পায়।
বিক্ষোভকারীদের কয়েকজন পার্লামেন্টের ফটক দিয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। কেউ কেউ ফটকের ওপর দিয়ে পার্লামেন্ট চত্বরে ময়লা ও বিভিন্ন জিনিস ছুড়ে দেন।
জনঅসন্তোষ বাড়তে থাকায় রাজধানীর নিরাপত্তায় ১৮ হাজার ৫০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জাকার্তা পুলিশ। অর্থনৈতিক সংকট ও আয়বৈষম্য নিয়ে দেশটির মানুষের ক্ষোভও ক্রমেই বাড়ছে।
৫০ বছর বয়সী লেখক ও বিক্ষোভকারী দিয়ান পুরমোমো বলেন, সরকারের এখন ঘুম থেকে জেগে ওঠা দরকার। জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মসূচি নেওয়া উচিত, এমন কোনো কর্মসূচি চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয় যা শেষ পর্যন্ত সরকারেরই স্বার্থে কাজ করবে।
বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্টে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা একটি বিল পাসের দাবি জানিয়েছেন। ২০০৮ সাল থেকে পার্লামেন্টে থাকা ওই বিলে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সম্পদ জব্দ করার সুযোগ রাখার প্রস্তাব রয়েছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন দুর্নীতির জন্য মৃত্যুদণ্ডের দাবিও জানিয়েছেন।
এ ছাড়া সরকারের ব্যয়বহুল বিনামূল্যে স্কুলের খাবার কর্মসূচি বন্ধেরও দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর অন্যতম প্রধান কর্মসূচি এই প্রকল্পটি দুর্নীতির অভিযোগ এবং ব্যাপক খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছে।
দিয়ান বলেন, গত এক বছরে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। দেশে দুর্নীতি ব্যাপক আকার ধারণ করেছে এবং তা ঠেকানোর কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। মানুষের প্রতিবাদ সত্ত্বেও বিনামূল্যে খাবার কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
সূত্র: এএফপি
এমএসএম