লেনদেন খরা দেখা দিয়েছে দেশের শেয়ারবাজারে। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন চারশ কোটি টাকার ঘরে নেমেছে। এদিন পাঁচ মাসের মধ্যে সব থেকে কম লেনদেন হয়েছে। লেনদেন কমলেও ডিএসইতে বেড়েছে মূল্যসূচক।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মতো অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) মূল্যসূচক বেড়েছে। তবে ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান থাকলেও সিএসইতে দাম কমার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের বড় উত্থান হয়। কিন্তু লেনদেনের শেষদিকে কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কমে। অবশ্য এরপরও দাম বাড়ার তালিকায় বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠান থাকার পাশাপাশি সবকয়টি মূল্যসূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
আরও পড়ুন
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পুনর্গঠনে অগ্রগতি, খেলাপি আদায়ে ১০ হাজার মামলা
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে ১৮৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে ১৪৪ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। এছাড়া ৬৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৮৪টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৮৭টির দাম কমেছে এবং ৩০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৩৯টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৬টির এবং ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৬২টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩১টির এবং ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া ৬টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ১৬টির দাম কমেছে এবং ১২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৬৫৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৮ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৩৪ পয়েন্টে নেমে গেছে। এছাড়া ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ১৩২ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
আরও পড়ুন
যন্ত্রাংশের নামে আনা হলো ৪ বিলাসবহুল গাড়ি, শনাক্ত করলো কাস্টমস
মূল্যসূচক বাড়লেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কমে গেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪৬৭ কোটি ১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫০৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৩৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে চলতি বছরের ১৬ মার্চের পর বাজারটিতে সব থেকে কম লেনদেন হলো। ১৬ মার্চ লেনদেন হয় ৪৬০ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার। কোম্পানিটির ৪৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সায়হাম টেক্সটাইলের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকার। ১২ কোটি ৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে লাভেলো আইসক্রিম।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- এমএল ডাইং, ব্র্যাক ব্যাংক, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, বেক্সিমকো, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল এবং আইপিডিসি ফাইন্যান্স।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৭১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭১টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৮০টির দাম কমেছে এবং ২০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৪ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ২৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪ কোটি টাকা।
এমএএস/কেএসআর