ময়মনসিংহের বাজারগুলোতে কাঁচামরিচসহ সবজির দাম স্থিতিশীল থাকায় ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে ডিম ও মুরগির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের মাংসের দাম চড়া। তাই সবজিতে স্থিতিশীলতা ফিরলেও আমিষের বাজারে বাড়তি খরচের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ময়মনসিংহ নগরীর কালিঝুলি ও সানকিপাড়া কাঁচাবাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের দামের এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
সবজির বাজার ঘুরে দেখা যায়, লাউ আকারভেদে ৪০-৫০ টাকা, গাজর কেজি প্রতি ১২০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০, ঝিঙা ৫০, শসা ৪০, বেগুন ৬০, পটল ৫০, মুখী ৪০, টমেটো ১০০, আলু ২৫, ঢেঁড়স ৬০, করলা ৬০, কাঁচা পেঁপে ২০, কাঁকরোল ৫০, পেঁয়াজ ৪৫, কাঁচা মরিচ ৮০, কুমড়া ৪০, দেশি লতা ৬০, আদা ১৪০ এবং বড়বটি ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মান ও আকারভেদে প্রতি কেজি রসুন ১০০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে সবচেয়ে আলোচিত কাঁচামরিচের দাম আগের তুলনায় কমে বর্তমানে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। তবে বাজারে সব সবজির দাম কমেনি বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
সানকিপাড়া বাজারের সবজি বিক্রেতা কামরুল ইসলাম বলেন, কাঁচামরিচের দাম আগের তুলনায় কমেছে। অন্য সবজির দাম মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে সবজির দাম প্রতিদিনই ওঠানামা করে। পাইকারি বাজারে দাম বাড়লে আমাদেরও বেশি দামে কিনে আনতে হয়।
আরেক বিক্রেতা শরিফুল ইসলাম বলেন, এখন বাজারে বেশিরভাগ সবজির সরবরাহ মোটামুটি ভালো। তাই কিছু সবজির দাম কম। তবে টমেটো, গাজর ও আদার মতো কিছু পণ্যের দাম তুলনামূলক বেশি।
বিক্রেতা শাহিন আলম বলেন, কাঁচামরিচের দাম কমায় মানুষ কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছে। কিন্তু বাজারে ক্রেতাদের মূল অভিযোগ হচ্ছে, সবজি কিনতে স্বস্তি পেলেও মাংস ও মুরগির দাম বেশি। সব মিলিয়ে সংসারের বাজার খরচ কমছে না।
এদিকে সবজির তুলনায় আমিষজাতীয় পণ্যের বাজারে চাপ বেশি। বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২১০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ৮৫০ থেকে ৮৯০ টাকা এবং খাসির মাংস এক হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
পাইকারি ব্যবসায়ী তোতা মিয়া বলেন, বাজারে পণ্যের দাম নির্ভর করে সরবরাহ ও চাহিদার ওপর। সবজির সরবরাহ ঠিক থাকলে দাম কমে আসে। আবার কোনো পণ্যের সরবরাহ কম হলে দাম বেড়ে যায়। বর্তমানে মুরগি ও মাংসের বাজারে দাম তুলনামূলক বেশি।
বাজার করতে আসা গোহাইলকান্দি এলাকার গৃহিণী লাবনী আক্তার বলেন, কাঁচামরিচের দাম কিছুটা কমেছে, এটা ভালো লাগছে। কিন্তু বাজারে একসঙ্গে অনেক কিছু কিনতে হয়। সবজি, মাছ-মাংস, ডিম, মুরগি সব মিলিয়ে খরচ অনেক বেড়েছে। একটি পণ্যের দাম কমলেও অন্য পণ্যের দাম বেশি থাকায় সংসারের বাজারে তেমন স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে ময়মনসিংহের বাজারে কাঁচামরিচের দামে কিছুটা স্বস্তি এলেও ডিম-মুরগি ও মাংসের চড়া দামে স্বস্তি অনেকটাই ম্লান। নিত্যপণ্যের বাজারে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, সরবরাহ স্বাভাবিক এবং বাজার মনিটরিং জোরদারের মাধ্যমে দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা।
হোসাইন সুলভ/কেজে/জেআইএম