একদিকে ছয় বছরের নিষ্পাপ শিশুর অসহায় মুখ, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের পেটের সমস্যায় কাতর এক মানুষ। উন্নত চিকিৎসা নিয়ে যখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, ঠিক তখনই মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন রাজশাহীতে অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন। অসুস্থতার কথা শুনে দ্রুত ভিসার ব্যবস্থা করে দেওয়ায় দুই পরিবারের মধ্যেই ফিরেছে স্বস্তি।
তানোর উপজেলার মথুরাপুর এলাকার বাসিন্দা মাহাতাব আলী মেহেদীর ছয় বছর বয়সী মেয়ে মুনতাহা সিদরাতুল ব্রেনের সমস্যায় ভুগছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত তাকে ভারতে নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু ভিসা জটিলতার কারণে মেয়ের চিকিৎসা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন বাবা মাহাতাব।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে শেষ ভরসা নিয়ে নগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকার ৩১৬ নম্বর হাউসে অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের দপ্তরে যান তিনি। সেখানে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মেয়ের অসুস্থতা ও পরিবারের দুর্ভোগের কথা জানান। বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করে দ্রুত ভিসার ব্যবস্থা করে দেন সহকারী হাইকমিশনার।
মায়ের কোলে শিশু মুনতাহা সিদরাতুল
মাহাতাব আলী মেহেদী বলেন, ‘মেয়ের চিকিৎসা নিয়ে আমরা খুবই দুশ্চিন্তায় ছিলাম। ভিসা জটিলতায় মনে হচ্ছিল, সময়মতো চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারব না। মানবিকভাবে বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত ভিসা দেওয়ায় ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের প্রতি আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।’
একই দিনে রাজপাড়া থানার মিয়াপুর এলাকার বাসিন্দা শরিফুল ইসলামও (৩১) দীর্ঘদিন পেটের সমস্যার চিকিৎসার জন্য ভিসা নিতে সহকারী হাইকমিশনারের দপ্তরে আসেন। আগের সন্ধ্যায় তীব্র পেটের জ্বালায় অসুস্থ হয়ে পড়লে এক প্রতিবেশীর পরামর্শে তিনি সহকারী হাইকমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে দ্রুত ভিসা হাতে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন শরিফুল।
শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘অসুস্থতার কারণে গতকাল সন্ধ্যায় প্রচণ্ড কষ্ট পেয়েছি। প্রতিবেশীর কাছ থেকে নম্বর পেয়ে যোগাযোগ করে আজ এখানে এসে দ্রুত সহযোগিতা পেয়েছি। আমার চিকিৎসার পথ সহজ করে দেওয়ায় ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।’
দুজন অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা করাতে ভিসার ব্যবস্থা করে দেওয়ার এই উদ্যোগ, রাজশাহীতে মানবিক সহায়তার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে।
মনির হোসেন মাহিন/কেজে/জেআইএম