বর্ষাকাল শেষে চলছে ভাদ্র মাস। তবে বৃষ্টির দেখা নেই। টানা বৃষ্টিহীনতায় কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকার আমন ক্ষেত শুকিয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও জমিতে ফাটল ধরেছে। এতে ধানগাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ফলন নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে কুড়িগ্রামে এক লাখ ১০ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ২১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমি।
সরেজমিন কুড়িগ্রাম সদর, উলিপুর, চিলমারী ও রাজারহাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নিচু জমির কিছু অংশে পানি থাকলেও উঁচু জমিগুলো একেবারে শুকিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও মাটি সাদা হয়ে ফেটে গেছে। পানির অভাবে ধানগাছও বিবর্ণ হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন
৩ কারণে বিপন্ন হচ্ছে প্রকৃতির পরম বন্ধু ‘গন্ধগোকুল’
উলিপুর উপজেলার মধুপুর গ্রামের কৃষক তৈয়ব আলী বলেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমন ধান লাগানোর উপযুক্ত সময়েই পানির সংকট দেখা দেয়। সেচ দিয়ে চারা রোপণ করেছি। এরপর আর জমিতে পানি দিতে পারিনি।’
চিলমারীর থানাহাট ইউনিয়নের মজারটারী গ্রামের কৃষক সেকেন্দার আলী ও নাজমুল হক জানান, পানির অভাবে সময়মতো সার দিতে পারেননি। পরে শুকনো জমিতেই সার দিতে হয়েছে। সার না গলার কারণে ছেউতি দিয়ে জমিতে পানি দিচ্ছেন।
কৃষক শমসের আলী বলেন, ‘পানির অভাবে জমি শুকিয়ে যাচ্ছে। সেচ দিলে খরচ বাড়ছে। বৃষ্টির অপেক্ষায় আছি। আবার পানি না থাকায় ধানগাছও ঠিকমতো বাড়ছে না।’
আরও পড়ুন
দখলদারদের পেটে কান্দিখাল, বৃষ্টিতে ভাসে কুমিল্লা নগরী
এদিকে পানি সংকটের পাশাপাশি আমন মৌসুমে সার নিয়েও কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। সরকারি বরাদ্দ থাকলেও প্রয়োজনের সময় ইউনিয়ন পর্যায়ে সার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেকে। এতে বেশি দামে খোলা বাজার থেকে সার কিনতে হচ্ছে তাদের।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রামে বিএডিসির আওতায় ১১৪ জন এবং বিসিআইসির আওতায় ৯৪ জন সার ডিলার রয়েছেন। প্রতি ইউনিয়নে বিএডিসির তিনজন ও বিসিআইসির একজন ডিলার থাকার কথা। তবে বাস্তবে কোথাও কোথাও এর ব্যতিক্রম রয়েছে।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আপাতত সারের সংকট নেই। বৃহস্পতিবার থেকে ডিলাররা আগাম সেপ্টেম্বরের সার উত্তোলন করতে পারবেন। তবে পানির অভাবে কৃষকরা কিছুটা সমস্যায় পড়েছেন। আগামী সপ্তাহে বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বৃষ্টি হলে পানির সমস্যাও কেটে যাবে।’
রোকনুজ্জামান মান/এসআর/জেআইএম