প্রথম ইনিংসে ভারত ৫০৩ রানে ইনিংস ঘোষণা করার পর ২৯০ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। এরপরই সবাই ধরে নেয়, ফলো অনে পড়া লঙ্কানদের হার ছিল কেবলই সময়ের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু সবাইকে ভুল প্রমাণ করে লঙ্কানদের পরাজয় ঠেকিয়ে ভারতকে জয়বঞ্চিত করেছে স্বাগতিকদের তরুণ ব্যাটার সোনাল দিনুশা।
টানা দুই ইনিংসে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন এই ব্যাটার। তাতে ভারত সিরিজ জিতলেও দ্বিতীয় টেস্টটি আর জিততে পারেনি। ড্র করলেও ফলাফলটা স্বাগতিকদের জন্য জয়ের মতো এক ড্র।
দিনুশা কলম্বো টেস্টের দুই ইনিংসেই শতকের দেখা পেয়েছেন দিনুশা। প্রথম ইনিংসে ১০৩ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে তার ব্যাটে আসে অপরাজিত ১৩৩ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে তার ব্যাটেই পরাজয় এড়িয়ে ভারতকে জিততে দেয়নি শ্রীলঙ্কা।
এর আগে গল টেস্টের প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরির পর দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ৮৪ রান। দুই টেস্টের চার ইনিংসে গড়েছেন অনন্য কীর্তিও। তৃতীয় লঙ্কান ব্যাটার হিসেবে চার ইনিংসে তিন সেঞ্চুরি করেছেন তিনি।
দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২৯০ রানেই গুটিয়ে যাওয়া শ্রীলঙ্কা আবারও ব্যাটিংয়ে নামে ফলো অনে পড়ে। ২১৩ রানে পিছিয়ে থেকে ইনিংস শুরু করে চতুর্থ দিন পর্যন্ত ৬ উইকেট হারিয়ে মাত্র ২৬ রানের লিড নিতে পেরেছিল তারা।
কিন্তু পঞ্চম ও শেষ দিনে সহজ জয় তুলে নেওয়ার অপেক্ষায় থাকা সফরকারী ভারতকে হতাশ করে ছেড়েছেন দিনুশা। লেজের ব্যাটারদের নিয়ে একের পর এক প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তিনি।
সপ্তম উইকেটে কেশারা নুয়ান্থার সঙ্গে তার জুটিটা ১১২ রানের। এটাই মূলত ড্রয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে। ফিফটি পূরণ করতে না পারলেও ১৫০ বলে গুরুত্বপূর্ণ ৪৬ রানের একটি ইনিংস খেলেন নুয়ান্থা। পরের উইকেটে নেমে ২ রান করেন প্রবাথ জয়সুরিয়া।
লাহিরু কুমারা নবম উইকেটে সঙ্গে দেন সোনাল দিনুশাকে। ৪৭ রানের এই জুটিতে মাত্র ১২ রান করেন কুমারা। আর বল খেলেন করলেও ৯০টি। যা কিনা ম্যাচটি ড্রয়ে বিরাট অবদান রেখেছে।
কুমারা সাজঘরে ফিরলেও থামানো যায়নি দিনুশাকে। শেষ উইকেটে ব্যাট করতে আসা আসিথা ফার্নান্দোকে নিয়েও জারি রাখেন লড়াই। এক পর্যায়ে দুই দলই ড্র মেনে নেয়।
২৬৪ বলে ১৩৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন সোনাল দিনুশা। আটটি চার ও দুটি ছয়ে সাজানে ইনিংসটি। এমন পারফরম্যান্সের পর পেয়েছেন ম্যাচসেরার পুরস্কারটিও।
আইএন